logo

সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০৭ কার্তিক ১৪২৫, ১১ সফর ১৪৪০

নিজের জন্য নয় জনগণের জন্য কাজ করবেন : প্রধানমন্ত্রী
২২ অক্টোবর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘নিজের জন্য নয়, এলাকার জনগণের জন্য কাজ করবেন। অাপনারা জনগণের প্রতিনিধি। জনগণ বিশ্বাস করে অাপনাদের ভোট দিয়েছে বলেই অাপনারা নির্বাচিত হয়েছেন। অাপনারা তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবেন।’

অাজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অায়োজিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক অাবদুল্লাহ ও কাউন্সিলরগণের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়নর পরিষদ এলাকা উন্নয়নের জন্য সরকার নানা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এ সকল প্রজেক্ট বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে। সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের জন্য কাজ করাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তিনি বলেন, অামরা একটানা ১০ বছর দেশ পরিচালনা করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন চোখে পড়ে। মানুষ উন্নয়ন চায়, স্থানীয় উন্নয়নে অাপনারা অংশ নেবেন। সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ চলছে। এই উন্নয়ন জনগণের এবং জনগণের অর্থে। উন্নয়নের যে অর্থ আমরা সরবরাহ করছি তার প্রতিটি পাই পাই পয়সা যেন জনগণের কাজে লাগে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি সব সময় চিন্তা করতে হবে- নিজেদের ভাগ্য গড়া নয়, নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নয়, নিজেরা অর্থ-সম্পদে শক্তিশালী হবো তা নয়। বাংলাদেশের মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম, মানুষ কী পেলো, মানুষের ভাগ্য কী পরিবর্তন করতে পেরেছি- সেটাই বড় কথা।

জনগণের জন্য কাজ করতে হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছে, যতদিন দায়িত্বে থাকবেন ভোটের বিনিময়ে তাদের কী দিতে পারলেন সেটাই বড় কথা। জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা সরকারে আসার পর থেকে সেই চেষ্টাই করেছি। যার কারণে আজ মানুষের উন্নতি হয়েছে, দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়েছে।

নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের দায়িত্ব- জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা। বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করা এটাই আওয়ামী লীগের চিন্তা-ভাবনা। এটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়ে গেছেন। সেই আদর্শ নিয়েই আমরা রাজনীতি করি। আজ ১০ বছর পরিশ্রম করছি। এই পরিশ্রম আমি আবার নিজের ভাগ্য করার জন্য করিনি। সন্তানদের বলেছি শিক্ষাটাই তোমাদের বড় সম্পদ। কোনো সম্পদ আমি তোমাদের জন্য রেখে যেতে পারবো না। বিদ্যা শিক্ষা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়বে। আমি দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে কাজ করবো। দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছি।

আর্থ-সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল, ১০ বছর হয়ে গেল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। আজ বাংলাদেশের মানুষের জীবনে সত্যিই একটা পরিবর্তন এসেছে।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাদকের হাত থেকে আমাদের পুরো সমাজকে মুক্ত করতে হবে। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে চাই। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।

উন্নত বাংলাদেশের কামনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে, প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম শহরে উন্নীত হবে। গ্রামের মানুষ নাগরিক সুবিধা পাবে, শহরের সুবিধা পাবে। সবদিক থেকে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

এ সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণকে আবারও নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by