logo

সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০৭ কার্তিক ১৪২৫, ১১ সফর ১৪৪০

‘নিষ্ঠুর আচরণের পর শেখ হাসিনা এখন তরুণদের হিতাকাঙ্ক্ষী সেজেছেন’
২২ অক্টোবর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
নিষ্ঠুর আচরণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন তরুণদের হিতাকাঙ্ক্ষী সেজেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।


রিজভী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যায়িত করে, তাদের কর্মসংস্থানে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা একথা বলে কী তরুণদের উপহাস করছেন? দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তারুণ্যের দ্রোহাগ্নির তাপ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য যিনি নিষ্ঠুরভাবে তরণদের দমন করেছেন, তিনিই এখন তরুণদের হিতাকাঙ্ক্ষী সেজেছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাই তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছেন। বেকারত্বের অভিশাপে দেশের তরুণ সমাজ আজ হতাশ ও বিপন্ন। আপনারা দেখেছেন- কিছুদিন আগেই কোটা আন্দোলনকারী ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে নামা স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর সরকারি বাহিনী কী তাণ্ডব চালিয়েছিল। এখনও কারাগারে আছে বেশকিছু শিক্ষার্থী। যারা জামিনে বের হয়েছেন তারা সর্বক্ষণ আতঙ্কে থাকে, যেসব শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, পুলিশ গুলি চালিয়েছিল তাদের অনেকেই আজও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি, অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।’

রিজভী বলেন, ‘সব ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। শিক্ষামন্ত্রী সহনীয় দুর্নীতির উপদেশ দিচ্ছেন। তারপরও কি প্রধানমন্ত্রী বলবেন- তিনি তরুণদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তবে হ্যাঁ মেধাবীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাইকারি হারে সরকারি চাকরিতে ঢুকিয়েছেন। মেধাহীন করেছেন গোটা জাতিকে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি শিক্ষিত ও কর্মক্ষম বেকার। দেশে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি সরকার বরং কল-কারখানা প্রতিদিনই বন্ধ হচ্ছে, গার্মেন্টস শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, এ সেক্টর এখন বাংলাদেশিদের হাত ছাড়া হয়ে গেছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব তো রয়েছে তার ওপর বর্তমান দুঃশাসনের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ নাই, ব্যাংকগুলো হরিলুট করে ফতুর করে দেয়ায় ব্যবসায়ীরা মুখ থুবড়ে পড়ে বসে আছেন। সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের কারণে উচ্চ শিক্ষিত বেকার বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী গতকাল সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন ৩ কোটি। হত দরিদ্রের সংখ্যা ১ কোটি। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে সরকারি আরেক পরিসংখ্যান বলা হয়েছে- দেশে হত দরিদ্র মানুষ রয়েছে প্রায় ২ কোটি আর দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন সাড়ে ৩ কোটি। বাস্তবে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীই এখন দরিদ্রসীমার নিচে বাস করছে।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পরিষ্কার করে বলতে চাই- যুবসমাজ, তরুণ সমাজ, ছাত্রসমাজ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা আপনার দুঃশাসনের যাতাকলে পিষ্ট। তারা আপনাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। চক্রান্তের বেড়াজাল তৈরি একের পর এক কালাকানুন প্রণয়ন করে, মানুষ হত্যা করে, গ্রেফতার নির্যাতন করে আর রেহাই পাওয়া যাবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), সাহিদা রফিক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, মহানগর বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by