logo

সোমবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৫, ২৫ সফর ১৪৪০

ঐক্যফ্রন্টে কাদের সিদ্দিকী, ডাকলেন বি. চৌধুরীকেও
০৫ নভেম্বর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান কাদের সিদ্দিকী।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিতসভা শেষে সোমবার দুপুর একটার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে এক অনুষ্ঠানে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন। বলেন, ‘আজকে এই মুহূর্ত থেকে আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলাম।’

বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর প্রতিও ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কাদের সিদ্দিকী। বলেন, ‘আশা করি ডিসেম্বরে আপনিও আমাদের সাথে আসবেন।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এখন সংযত ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে সরকার। আমরা এটাই চেয়েছিলাম। দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়। আমরা একটু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এই লক্ষ্যেই আমি ড. কামাল হোসেনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলাম। আমি এই মুহূর্ত থেকে ঐক্যফ্রন্টের অংশ।’

‘যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসেছেন তখন থেকেই দেশে একটু হলেও ভালো অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা এটাই চেয়েছিলাম। আমরা একটা সুষ্ঠু ও গ্রণযোগ্য নির্বাচন চাই।’

গত ১৩ অক্টোবর বিএনপি, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণফোরাম এবং কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে গঠন করা হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই জোটে যোগ দেয়ার কথা ছিল বি. চৌধুরীরও। তবে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার শর্ত দিয়ে ছিটকে পড়েন তিনি। আর তিনি এখন মনে করেন এই জোট বিএনপিকে ক্ষমতায় ফেরানোর উদ্যোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি রাজনীতিতে যে ভারসাম্যের কথা বলেছিলেন, এতে সেটা হবে না। ফলে তিনি এই উদ্যোগে আর নেই।

গত ৩১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী এক হলেই তিনি কোনো জোটে যাবেন। তবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

ওই রাতেই কাদের সিদ্দিকীর মোহাম্মদপুরের বাসায় যান ড. কামাল হোসেন। জনতা লীগ নেতাকে আমন্ত্রণ জানান তার জোটে যোগ দিতে।

ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘নব্য স্বৈরাচার’আখ্যা দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘লড়াইয়ের মাধ্যমে ইয়াহিয়া খানদের পরাজিত করা হয়েছিল, এই নব্য স্বৈরাচারও পরাজিত হবে। আমরা লড়াই করব, আইনি সহায়তা দেবেন ড. কামাল হোসেন। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পাশে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থাকবে।’

বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। বলেন, ‘ঐক্য গঠন করতে তাঁর (কাদের সিদ্দিকী) যথেষ্ট অবদান রয়েছে। আমাদের এ লড়াই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াই। তাঁর যোগদানের মধ্য দিয়ে লড়াইয়ের মাত্রা বেড়ে গেল।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উত্থাপিত ৭ দফা দাবি মেনে নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করুন। নির্বাচন না দিয়ে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন না। যদি দেশ সংঘাতের দিকে যায় তবে তার দায়-দায়িত্ব এই সরকারকেই নিতে হবে। ’

‘আপনাদের পায়ের তলার মাটি নেই। দেশের মানুষ বোকা নয়। ভোট জালিয়াতির বন্ধ করতে ইভিএম বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন করতে হলে সাত দফা মানতে হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু কাদের সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করব। দেশের মানুষ আশা নিয়ে সংলাপের দিকে তাকিয়ে আছে।’

এর আগে কাদের সিদ্দিকী তার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পরে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ক্ষুদ্র পরিসরে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ অ ম শফিক উল্লাহ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সহ-সভাপতি নাসিরন কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by