logo

মঙ্গলবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২ কার্তিক ১৪২৫, ২৬ সফর ১৪৪০

সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচলে বিএনপি
০৬ নভেম্বর, ২০১৮
চলতি সপ্তাহেই আসছে নির্বাচনের তফসিল। কবে হবে ভোট? এই প্রশ্নটির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে বিএনপি কী করবে? আন্দোলন নাকি নির্বাচন? তবে বিএনপি নিজেও সিদ্ধান্তহীনতায়। কোনো একটি সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ নয় তাদের পক্ষে। আছে নানা জটিলতা, সমীকরণ। তাই বুঝেশুনে আগাতে হচ্ছে তাদের।

বিএনপির নানা দাবি আছে ভোট নিয়ে। এর মধ্যে কিছু দাবি পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। যেমন সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হলে তাতে বাধা শাসনতন্ত্র। আর এসব দাবি মানা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর বাইরে আরেকটি বড় দাবি আছে, এটি হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। এটিও আইনি বিষয় বলে প্রথম দিনের সংলাপে এড়িয়ে গেছেন সরকারপ্রধান। যদিও দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসার আগে আসছে প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ।

বুধবারের সংলাপেও যদি কাক্সিক্ষত সমাধান না হয়, তাহলে বিএনপি কি আবার আন্দোলনে যাবে নাকি সব মেনে নির্বাচনের দিকেই যাবে, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নেয়াও বিএনপির জন্য সহজ নয়। কারণ, দুইবার আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে তাদের। এই অবস্থায় তৃতীয়বার নেতাকর্মীরা আগ্রহী হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার ভোট বর্জন করলে নিবন্ধন আইনের মারপ্যাঁচেও পড়তে হতে পারে। নিবন্ধন বাতিল হলে দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নেয়া যাবে না আর।

আবার সরাসরি ভোটে আসার ঘোষণা দিলে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে পাঁচ বছর আগে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এই অবস্থায় শীর্ষ নেতারা কী করবেন, সেদিকে তাকিয়ে কর্মী সমর্থকরাও।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আন্দোলন না নির্বাচন সে বিষয়ে কোনো ম্যাসেজ আমরা পাইনি। তবে চেয়ারপারসনের মুক্তির কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যই বেশি বলা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন এবং আন্দোলন দুই প্রস্তুতিই আমাদের আছে। তবে এ নিয়ে এখনো নতুন করে বলার কিছু নেই। কিছু হলে আপনারা জানাবেন।’

বিএনপি নেতারা জানান, তারা আশা করছেন, দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া বা যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী তারেক রহমানের কাছ থেকে শিগগিরই বার্তা আসবে। আর এরপরই নেতাকর্মীদের কাছে বার্তা জানিয়ে দেয়া হবে।

গত শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে নিজেদের করণীয় ঠিক করার জন্য আলোচনা হয়। এজন্য দ্রুত চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও বলা হয়। সে অনুযায়ী শিগগির আন্দোলন বা নির্বাচনের জন্য নিজেদের সাংগঠনিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে বৈঠক করবেন স্থায়ী কমিটি। তার আলোকেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি পাঁচ বছর আগের এই সময়ে ছিল নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত। হরতাল, অবরোধসহ নানাভাবে জানিয়ে যাচ্ছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি। কিন্তু এবার রাজনৈতিক অঙ্গন অনেকটাই শান্ত। যদিও আছে চাপা উদ্বেগ।

৮ নভেম্বর ভোটের সময় জানিয়ে ঘোষণা করা হবে তফসিল। আর এর আগে ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে যোগ দেয় বিএনপিও। সেই বৈঠকে কাক্সিক্ষত ফল না আসায় আগামীকাল সকালে আবার বৈঠক হবে দুপক্ষে। আর এই বৈঠকের ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু।

তবে আন্দোলনে গেলে হুট করে কর্মসূচি ঘোষণা না করে সময় দিয়েই ধীরে ধীরে কঠোর অবস্থানে যাবে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, তারা জনগণকে দেখাতে চান, সমস্যার সমাধানে তাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল না। কিন্তু সরকারই তাদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে।

আবার পাঁচ বছর আগের আন্দোলনে নজিরবিহীন সহিংসতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে দলটিকে। পেট্রল বোমা ও নাশকতার দায় এখনো তাদের ওপর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই বিষয়টি তুলে ধরছে তারা। এ কারণে এবার আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে বিএনপির। আবার তৃণমূলের নেতারা বারবার কেন্দ্রকে চাপ দিয়ে আসছেন, ঢাকায় আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টিতে জোর দিতে। এ ক্ষেত্রেও চেষ্টা থাকবে দলের।

ওদিকে আবার ভোটের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে থাকতে নারাজ বিএনপি। শেষমেশ নির্বাচনে এলে যেন দুই জোট ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা না থাকে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

আগ্রহী নেতারা নিজ নিজ এলাকায় নানাভাবে তাদের কথা তুলে ধরছেন। এমনকি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন।

বুধবার গণভবনে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে বলেও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বলছেন, সংলাপ এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল পেছানোর আবেদনে কী সিদ্ধান্ত নেয় সে বিষয় দেখতে চায় বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা সংলাপে গেলেও কোনো ফল পাইনি। তারপরও চেষ্টা করছি সরকার বাস্তবতা বুঝবে। ছোট পরিসরে দ্বিতীয় দফা সংলাপ আছে, দেখি সেখানে কি হয়। আমরা ইসিকে চিঠি দিলাম দেখি তারা তফসিল পেছানোর বিষয়ে অবস্থান থেকে সরে আসে কি না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচন না আন্দোলন- সে বিষয়ে জানতে হলে সরকারের সঙ্গে ছোট পরিসরে আমাদের যে সংলাপ হবে, সেখানে সরকারের মনোভাব কী হবে, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পেছাতে আমরা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি। তারা কি করে, সেটাও দেখতে হবে।’

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by