logo

মঙ্গলবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২ কার্তিক ১৪২৫, ২৬ সফর ১৪৪০

সংলাপের ফলাফল সংবাদ সম্মেলনে জানাবেন প্রধানমন্ত্রী
ওবায়দুল কাদের
০৬ নভেম্বর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফল জানাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, ৮ অথবা ৯ নভেম্বরের মধ্যে যে কোনো দিন এ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংলাপের সারসংক্ষেপ তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ডায়ালগগুলোর সামারি তৈরি করা হচ্ছে, তিনজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা প্রথমদিন থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। এ বক্তব্য রেডি হওয়ার পর আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন প্রেস কনফারেন্সে, রেজাল্টটা কী?

রেজাল্টটা তো জানাতে হবে।’ আগামী ৮ বা ৯ নভেম্বর এ সংবাদ সম্মেলন হবে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘সেখানে জানানো হবে এত দলের সঙ্গে ডায়ালগের ফলাফল কী, সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। যে যে বক্তব্য দিয়েছে সব রেকর্ড রাখা হচ্ছে, কম্পাইল করা হচ্ছে প্রতিদিন। সব মিলে সরকারপ্রধান সংবাদ সম্মেলন ডেকে সিদ্ধান্ত জানাবেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপে আসা কিছু কিছু দাবি এর মধ্যেই আংশিক মেনে নেয়া যায়। ৮ তারিখে সিডিউল হচ্ছে, এ সময় সংবিধানের বাইরে যাওয়ার বা দাবি মেনে নেয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করি না।’ দাবি ‘আংশিক’ মেনে নেয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে- সংবিধান ভেঙে দিতে হবে বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে। আমরা বলেছি সংসদ নিষ্ক্রিয় থাকবে। আলোচনায় আসুক তারা, যদি সংবিধানের ভেতরে সংবিধান রেখে আর কোনো পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব করেন, গ্রহণ করার মতো হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ইসির প্রস্তুতির মধ্যেই অপ্রত্যাশিতভাবে সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১ নভেম্বর কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে গণভবনে আলোচনায় বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই সংলাপে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। তবে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো দাবি মানার সুযোগ নেই বলে তাদের জানান। এরপর অন্যান্য দল ও জোটও সংলাপের আগ্রহ দেখালে তাদের আমন্ত্রণ পাঠানো হয় গণভবন থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বলা হয়, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সংবিধানসম্মত যে কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে তার দুয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য খোলা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ সংলাপ হবে ৭ নভেম্বর (বুধবার)। আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। ছোট পরিসরে আলোচনা হবে। আমরা ১০ জন থাকব, তারা কয়জন পাঠান, ছোট যখন, তারা সেরকম পাঠাবেন। আলোচনায় কত সময় লাগবে সেটা তো বলা যাচ্ছে না, কাল (আজ) থেকে আমাদের দুটো করে সংলাপ হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের দাবি তো কয়েকটি মেনে নেয়া হয়েছে। কিছু কিছু বিষয় আছে সিডিউলের পর আমাদের এরিয়ায় থাকবে না, যেমন বিদেশি পর্যবেক্ষক বিষয় দেখবে ইলেকশন কমিশন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হচ্ছে আরেকটি বিষয়, সরকারি দল তা মেনে চলবে। মন্ত্রীরা তাদের এলাকায় সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না, পতাকা ব্যবহার করবেন না, নিরাপত্তার বিষয়টিও ইলেকশন কমিশনের হাতে থাকবে।’

সাংবাদিকরা রোববার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে। সে প্রসঙ্গ টেনে সোমবার তিনি বলেন, ‘বিএনপি কি প্যারোলে মুক্তি চেয়েছে? আপনারা কেন প্রশ্ন করছেন? প্যারোলে কি ইলেকশন করা যায়? স্বল্পসময়ের জন্য যেমন আত্মীয় মারা গেলে বা দেশে না হলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য, সে ধরনের দাবি তো বিএনপি করেনি। আমরা গায়ে পড়ে কেন প্যারোলে মুক্তি দেয়ার কথা বলব?’ দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন করতে পারবেন কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এটি বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত, তারা জানাতে পারবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন জোটের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপ করে গিয়েও তো একেকজন একেক কথা বলছেন, তাদের নিজেদের মধ্যে তো কোনো মিল নেই। তারা নিজেরাই তো ঐক্যবদ্ধ নন। একেকজন একেক রকম কথা বলছেন। আমরা চাই তাদের ঐক্য থাকুক।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, কেউ যদি সেই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করে, তাহলে সেই ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমন করার জন্যও প্রস্তুত। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের দু-তিনটি দাবি ইতিমধ্যে মেনে নিয়েছি, যেমন- তারা নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক চেয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকে আমাদেরও আপত্তি নেই, আমরা একমত। তবে এটির সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের, সরকারের নয়। নির্বাচন কমিশন বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলে সরকার বাধা দেবে না। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, তারা নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চেয়েছেন। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করতে রাজি আছি। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা নিরাপত্তা ছাড়া কোনো বাড়তি সুযোগ নেবেন না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন না, প্রধানমন্ত্রী শুধু দলীয় পতাকা ব্যবহার করবেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা যদি গাড়িতে শুধু দলীয় পতাকা ব্যবহার করেন, তাহলে এটিই তো একটি বড় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। ৮ তারিখ তফসিল ঘোষণা হবে, কাজেই সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙে দেয়া হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারত ও ইংল্যান্ডে নির্বাচনের সময় তো সংসদ ভেঙে দেয়া লাগে না। তাহলে বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম হবে কেন?

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by