logo

বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

ছাত্রনেতা মোমিন হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কাফরুলের কলেজছাত্র জাসদ ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এদের মধ্যে স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় ওসি রফিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ নেই।

এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া আরো ৬ জনের সাজাও বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও নির্মল কুমার দাস। আর আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এ কে এম তৌহিদুর এবং রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী শফিকুর রহমান কাজল।

যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তারা হলো: ওসি রফিক, সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে: হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিনের।

ওসি রফিক বিচারিক আদালতের রায়ের পরই মারা যায়। আসামিদের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান তাজ ও ঠোঁট উঁচা বাবু বাদে দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এখন পালাতক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র মোমিন জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর ইব্রাহিমপুরে বাসার সামনে খুন করা হয় মোমিনকে।

ওই দিনই তার বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পরে এর বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন জানালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। কিন্তু ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়।

এতেও বাদী আপত্তি জানালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেওয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০০৮ সালের ১১ নভেম্বর অভিযোগপত্র গৃহীত হয় এবং ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের বিচার শুরু হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। এই আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় । এই আদালত বিচার শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় ঘোষণা করেন।

ওই রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই রায়ের পর ওসি রফিক মারা যাওয়ায় এখম মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। আর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিন।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট রায় দেন।

সর্বশেষ খবর

খবর এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by