logo

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ রমজান ১৪৩৯

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা
১৪ জুন, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
শেষ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। ক্রেতারা কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
পঞ্চগড়: জমে উঠেছে সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে ঈদ বাজার। জেলা শহরসহ প্রতিটি উপজেলা শহরে তীব্র গরম উপেক্ষা করে সব বয়সী ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। থান কাপড়, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, ওড়না, জুতা থেকে কসমেটিকস বা গহনা সবখানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শারমিন সুলতানা শিল্পী নামে এক ক্রেতা জানান, মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উত্সব এই ঈদে নতুন কাপড়সহ অন্যান্য জিনিসপত্র তো চাইই চাই। এজন্য পরিবারের সবাই মিলে পছন্দের কাপড়, শাড়ি, থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবি কিনতে হচ্ছে। শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবিসহ প্রতিটি জিনিসপত্রের এবার দাম বেশি বলে জানিয়েছেন ওই ক্রেতা। আলহাজ বস্ত্র বিতানের বাবু জানান, বর্তমানে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং উচ্চবিত্তরা কেনাকাটা করছেন। ভালো বিক্রি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ওই বিক্রেতা।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চগড়ে ‘একদর’ বা ‘ফিক্সড প্রাইস’ নামে আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা দাম। জেলার বিভিন্ন মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে একদর বা ফিক্সড প্রাইস এর নামে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। ক্রেতাদের কাছে একদরের নামে গলাকাটা দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। প্রতিটি পণ্যের দিগুণ কোথাও তিনগুণ বেশি মূল্য লিখে রেখে একদর বা ফিক্সড প্রাইস হিসেবে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন।

পাবনা: পাবনার অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। পাবনার বাজারে গত বছর দেশি পোশাকের রাজত্ব থাকলেও এ বছর দখল করেছে ভারতীয় পোশাক। এবার ভারতীয় নায়িকা ও সিরিয়ালের নামে তেমন কোনো পোশাক আসেনি। তবে ফ্লোর টাচ, ঝিলিক, টুপাট বাহুবলির মতো পোশাক বাজার দখল করেছে। তবে গরমের জন্য বেশির ভাগ ক্রেতারই পছন্দ সুতি কাপড়। আর শাড়ির বাজারে দেশি শাড়িই বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন দাম নাগালের মধ্যে আছে। তবে ক্রেতাদের তেমন কোনো অভিযোগ নেই দাম নিয়ে।

জেলার রবিউল মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা জানান, এবার কেনাবেচা বেশ ভালো। ঈদ যেহেতু গরমের সময় সেদিক লক্ষ্য রেখে বেশির ভাগ মহিলা ক্রেতা সুতি কাপড়ের পোশাক কিনছেন। আর দামও রয়েছে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। দিন যতই যাচ্ছে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির (পিপিএম) জানান, ক্রেতারা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মার্কেটে কেনাকাটা করতে পারেন সেজন্য বিভিন্ন মার্কেটে ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল টিম টহল জোরদার করা হয়েছে।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর): ভাণ্ডারিয়া বাজারের বিভিন্ন বিপণি বিতান, শপিং সেন্টার, ল্যাডিস ফ্যাশনসহ বাজার ঘুরে এবং বিভিন্ন দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এবং জাতীয় পার্টি- জেপির চেয়ারম্যান পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বাজারের খাজনা ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করায় অন্যান্য স্থানের ইজারাদারদের উত্পাত এড়াতে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারছেন স্থানীয়রা। বাজারের বেশ কয়েকটি বড় দোকান ছাড়াও বেশ কয়েকটি লেডিস দোকানির মধ্যে কাটিং টু ফিটিং আদী দিপকংর টেইলার্স এন্ড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী দিপংকর রায় ও উত্সব গার্মেন্টসের মিজানুর রহমান নিপু জোমাদ্দার জানান, এ বছর ইন্ডিয়া ও চায়না পোশাক না থাকায় তরুণীদের পছন্দ দেশি গাউনের দিকে। তার দোকানে ৭/৮হাজার থেকে সর্বনিম্নে ১৫শ টাকা পর্যন্ত পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নিপুন ফ্যাশনের মো. কবির হাজী জানান, উপজেলার বাংলার ফ্যাশন, তালুকদার বস্ত্রালয়, লাবিব ফ্যাশন, স্বপ্নপুরি, বধূয়া ফ্যাশন এন্ড বিউটি পার্লার, লেডিস ফ্যাশনসহ কিছু কিছু দোকানে ৪/৫/৬/৮ হাজার থেকে ১০/১২ হাজার এবং নিম্নে ৫শ, ১ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতো পাখি, কারিনা বা অন্যান্য যে নাম দিয়ে ব্রান্ড পোশাক কেনার হিড়িক ছিল সেটি লক্ষ্য করা যায়নি।

এদিকে এবার পকেটমার ছিচকে চোর এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধামইরহাট (নওগাঁ): ধামইরহাট পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার দোকানগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘নো চেঞ্জ, ফিক্সড প্রাইস’ উপজেলার অধিকাংশ মার্কেটের দোকানে সাঁটানো হচ্ছে এমন লেখা কাগজ। গত কয়েকদিন ধরে বেচাকেনায় দম ফেলানোর সময় পাচ্ছেন না দোকানিরা। চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস পাওয়ার পর হঠাত্ করেই বেড়ে গেছে মানুষের ভিড়।

পৌর ব্যবসায়ী সাইফুল জানান, মধ্য রমজান পর্যন্ত বিক্রি করা পণ্য পরিবর্তন ও ফেরত নেওয়ার সুযোগ ছিল। এখন ক্রেতার ভিড় বেড়ে যাওয়ায় এটা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক দোকানি কম সময়ে বেশি পণ্য বিক্রি করতে নির্দিষ্টহারে লাভ নির্ধারণ করে এক দামে পণ্য বিক্রি করছেন। পৌর শহরের অভিজাত বিপণি বিতান, সাহিন গ্যার্মেন্টস, ভাই ভাই ফ্যাশন, মা বস্ত্রালয়, রউফ গ্যার্মেন্টস সাইফুল শাড়ি হাউস, সজল ফ্যাশনসহ সব দোকানেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

কচুয়া (চাঁদপুর): উপজেলার পৌর বাজারের মায়াজান প্লাজার ফাতেহা বস্ত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সাত্তার জানান, এ বছর দেশীয় সুতির শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, ফ্রগ ও গাউনের প্রতি ক্রেতারা বেশি আকৃষ্ট। এছাড়া ভারতীয় পোশাকের মধ্যে রয়েছে বিনয় থ্রি-পিস।

উপজেলার সবচেয়ে বেশি বেচা কেনা জমে উঠা দোকানগুলো হচ্ছে কচুয়া পৌর বাজারের মায়াজান মার্কেট, বিসমিল্লাহ মার্কেট, কাপড়পট্টি ও ভূঁইয়া মার্কেট।

সর্বশেষ খবর

খবর এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by