logo

বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

গ্রিনল্যান্ডে গলবে হিমবাহ, ডুববে চট্টগ্রাম
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুব দ্রুত গলে যাচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ। এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। আর এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশেরও নাম। গ্রিনল্যান্ডের এ বরফ গলা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে কোনো একদিন চট্টগ্রাম ৩ দশমিক ২০ ফুট বা এক মিটার পানির নিচে ডুবে যাবে।

নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি বিভিন্ন চলক বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। যেখানে হিমবাহ গলার কারণে বিশ্বের কোন শহর কতটুকু প্লাবিত হবে সেটি তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বজুড়ে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর ফলে খরা, দক্ষিণাঞ্চলয় ইউরোপের বনাঞ্চলে আগুন লাগাসহ ঘূর্ণিঝড় বেড়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে।

তবে বরফ গলে পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

নাসা জানাচ্ছে, এ শতক শেষে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমুদ্রের পানির উচ্চতা দশমিক ৬৬ থেকে ৬ দশমিক ৬ ফুট (দশমিক ২ মিটার থেকে ২ মিটার) পর্যন্ত বাড়তে পারে।

একজন বিজ্ঞানী বলছেন, চলমান গতিতে গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাদর পুরোপুরি গলে যেতে কয়েকশ’ বছর লেগে যেতে পারে। এর ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ২৪ ফুট (প্রায় ৭ মিটার) পর্যন্ত বেড়ে যাবে।

এদিকে মরু এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এ গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাদর বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো জায়গা থেকে দ্বিগুণ গতিতে গলে যাচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডের সার্বিক বরফ গলার পরিমাণ গেলো দুই দশকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০১ সালের মধ্যে গড়ে বরফ গলা পানির পরিমাণ ছিল ৩৪ গিগাটন। তবে ২০০২ সাল থেকে বার্ষিক গড় বরফ গলা পানির পরিমাণ ২৮০ গিগাটনে দাঁড়িয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় কিনারা ঘেঁষে হেলহেইম নামের এমনই একটি হিমবাহ খুব দ্রুত গলছে। তবে কেন এমনটা হচ্ছে সেটি খুঁজে দেখবার জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার পৌরাণিক কাহিনী ‘মৃতের রাজত্ব’র নামে হেলহেইমের নামকরণ করা হয়।

বহু বছর ধরে হিমবাহটি একটি স্বাভাবিক গতিতে গলছিল। কিন্তু ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এ বরফ গলার মাত্রা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। গরম বাতাস ও পানির কারণে বরফ গলার এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন গবেষক বলেন, আগস্ট ২০১৬ থেকে আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত যে পরিমাণ বরফ গলেছে, সেটি এক দশকের মধ্যে একবছরে সর্বোচ্চ বরফ গলার ঘটনা।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ জেসন বক্স বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে হেলহেইমের মতো আরো শত শত হিমবাহ রয়েছে। যেগুলো দ্বিগুণ গতি গলছে।

গ্রিনল্যান্ডের এ আকস্মিক পরিবর্তনে যে শুধু জেসনই অবাক হয়েছেন তা নয়। আরো এমন অনেকেই আছেন যাদের চোখে এ পরিবর্তনটা ধরা পড়েছে।

তেমনি একজন টোবিয়াস ইগনাটিউসেন। যিনি গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দা। তিনি বলেন, আমার বাবা-দাদার মতো আমিও ছোটকাল থেকেই কুকুর টানা গাড়ি দিয়ে শিকার করে এসেছি।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, হয়তো তারা ভিন্ন এক গ্রিনল্যান্ডে বেড়ে উঠবে।

বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে একমত যে এ শতক শেষে সমুদ্রে পানির উচ্চতা এক মিটার পর্যন্ত বাড়বে। এমনকি কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ যদি নাটকীয় ভাবে কমে যায় তাহলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে না।

আর এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্বের বিভিন্ন উপকূলীয় শহর। যেখানে মিয়ামি থেকে মুম্বাই এবং নিউ ইয়র্ক থেকে সাংহাইয়ের মতো শহরের নাম রয়েছে।

তবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির এ হারটা সমানুপাতিক হবে না বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, পৃথিবীর ভর, মধ্যাকর্ষণ ও ঘূর্ণনের কারণে প্লাবনের হারটা কম বেশ হবে।

হিম চাদরে কাছাকাছি এলাকায় সমুদ্রের উচ্চতা হয়তো বাড়বে না। যা আদতে আইসল্যান্ডের রিকজাভিকের মতো এলাকার ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

সর্বশেষ খবর

খোলা হাওয়া এর আরো খবর

    আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

    Developed by