logo

বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৮ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৩৯

এক কেজি চালের দামে একটি গোলাপ
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছদ্মনাম মাসুম। রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বল্প বেতনে চাকরি করেন। থাকেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ির রায়েরবাগ এলাকায়। বসন্তের প্রথম দিন। বেলা পড়ে গেছে। তবে সূর্যটা তখনো লাল আভা দিয়ে যাচ্ছে। ফিরছিলেন বাড়ি।

পথে দুটি ফুলের দোকানে চোখ পড়লো মাসুমের। বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখেই হঠাৎ গজিয়ে উঠেছে দোকান দুটি। দোকানে রঙবেরঙের ফুল দেখে কৌতুহল হলো মাসুমের। ভাবলেন একবার দাম জিজ্ঞাস করেই দেখি না, ফুলের দাম কেমন?

ভালোবাসা দিবস নিয়ে অতোসতো তোয়াক্কা করেন না মাসুম। কিন্তু মাঝে মাঝে ঘর সামলাতে একটু বাড়তি ভালোবাসা তো দেখানোই যেতে পারে। এতে তেমনটা অপরাধবোধ নেই তার। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো পকেটের ভারত্ব।

মাসুম এক দোকানির কাছে দর জানতেই বলল, এই যে দেখছেন রজনীগন্ধা ফুলের মালা। এটা জোড়া ৩০ টাকা। আর একটি লাল গোলাপ ৫০ টাকা। গোলাপভেদে দাম কমও আছে। তবে ২৫ টাকার কম না। রজনীগন্ধার স্টিক ১৫ থেকে ২০ টাকা।

ঘুরে আরেক দোকানে পা ফেলান মাসুম। সেখানেও একই অবস্থা। দাম একই। দোকানির ভাষ্য, একদাম। নিলে নেন। না নিলে নিয়েন না।

দোকানিরা বলছেন, ভাই যে ফুল এনেছি, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাবে। দাম বেশি, তাও সবাই ফুল কিনছেন। বিশেষ করে অফিস ফেরত চাকুরিজীবীরা যাবার বেলায় এখান থেকে ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আশা করছি, ব্যবসা ভালো হবে।

শুধু রায়েরবাগ নয়, নগরীর বহু এলাকাতেই কমবেশি ফুলের দোকান বসেছে। তবে শাহবাগ মোড়, গুলশান ১ ও ২ নম্বর, বনানী, উত্তরা ও আগারগাঁওয়ে ফুল বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু এই উৎসবের সময় ক্ষণিকের দোকানের অভাব নেই।

ফুল ব্যবসায়ীরা বলেন, বছরের এসময় গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদার চাহিদা বেশি থাকে। গত বছর এসময় গোলাপ মানভেদে ১০ থেকে ৩০ টাকা, রজনীগন্ধা ৭ থেকে ৮ টাকা ছিল। গাঁদার দাম ছিল ৩০ থেকে ৫০ এর কাছাকাছি।

ফুল ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলছেন, অসময়ে বৃষ্টি ও ফুলে ছত্রাকের আক্রমণে বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান কম। তাই ফুলের দাম এসময় অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বাংলাদেশ ফুল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, গত বছর উৎসবের এই মৌসুমে রাজধানীর বাজারগুলোতে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ গোলাপ এসেছিল। এবার সেটা ২৫ লাখ ছাড়াবে না। রজনীগন্ধার স্টিক ছিল কমবেশি ২০ লাখ, তা এবার ১৫ লাখের নিচে। এ জন্য দাম বাড়তি।

ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি বাবুল প্রসাদ বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও আমরা পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসে প্রচুর ফুল বিক্রি করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এবার কমবেশি ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হওয়ার আশা করছি।

প্রসাদ বলেন, এ বছর শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় চাষীরা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল,অনেকের ফুলগাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শীত কমে যাওয়ায় তেমন বড় সমস্যা হয়নি। যেভাবে ক্রেতারা আসছে তাতে আশা করি আমাদের লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারবো।

মাসুমের কথা ছিল বাড়ি ফেরার সময় চাল কিনবেন। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি। কিন্তু এই দিনে তিনি বড় কিছু দিতে না পারলেও প্রিয়জনের জন্য একটি ফুল দিতেই পারেন। বাড়িতে ফোন দিলেন। বললেন আজ চাল না আনলে হয় না। কাল আনবো। ওপাশ থেকে স্ত্রী- কিন্তু কেন? মাসুমের উত্তর পরে বলবো।

মাসুম আর কথা বাড়ালেন না। কিন্তু কী ফুল নিবো। এক কেজি চালের দামই তো ৫০ টাকা। মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এককেজি চালের দামেই একটি ফুল কিনতে হবে?

কদিন আগেও যে গোলাপ পাওয়া যেত মাত্র পাঁচ থেকে আট টাকায় তা এখন কিনতে হবে এই টাকায়! স্থির করলেন, গোলাপ না, ৩০ টাকায় এক জোড়া রজনীগন্ধার মালায় প্রিয়তমার খোঁপায় পরাবেন।শেষ পর্যন্ত দোকানেই পড়ে রইল হতভাগা লাল গোলাপ।

সর্বশেষ খবর

খোলা হাওয়া এর আরো খবর

    আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

    Developed by