logo
স্বর্ণযুগের তারকা

মাঝে মাঝেই স্মৃতির খেয়ায় ভাসেন নূতন। দেশীয় চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের এই নায়িকা আমাদের অনেক হিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। নূতন পেছন ফিরে তাকালে রোমাঞ্চিত হন। চলচ্চিত্রের সোনাঝরা দিনগুলো তার চোখে অন্যরকম দ্যুতি ছড়ায়। নিজের ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময়গুলোর কথা প্রসঙ্গে এক সময়ের সাড়া জাগানো এই নায়িকা বললেন,‘আমি অনেক রঙিন সময় কাটিয়েছি একের পর এক ছবির সাফল্যে। সেই দিনগুলোর কথা ভাবতে ভালো লাগে। কারণ, তা সুখের স্মৃতি। আমি সাধারণত কষ্টের কোনো কথা বা ঘটনা মনে করতে চাই না। এখন কাজ খুব একটা করি না কিন্তু দেশীয় চলচ্চিত্রের খোঁজ-খবর রাখি। মাঝে কিছুটা খারাপ সময় গেলেও এখন আমাদের নির্মাতারা ভালোই কাজ করছেন। তবে আরো ভালো করতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে ছবি নির্মাণ করতে হবে। শুধু নায়ক-নায়িকানির্ভর গল্প নিয়ে কাজ করলেই হবে না। পাশের দেশের মতো বিভিন্ন সাবজেক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। এভাবে ভাবলে ও কাজ করলে আমরা হয়তো আমাদের চলচ্চিত্রের সোনালি অতীতটাকে ফিরে পাবো। আমি এই স্বপ্নটাই দেখি।’ নূতন যদি কখনো চলচ্চিত্র থেকে নীরবে নিভৃতে আড়ালে থাকতে চান, তার পরও ইতিহাস তাকে বারবার সামনে টেনে আনবে। কারণ, তিনি নূতন, বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের নায়িকা। চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করাটাকে নূতন তার জীবনের সেরা একটি কাজ বলেই মনে করেন। ময়মনসিংহের মেয়ে নূতনের আসল নাম রত্না। নায়িকা হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘নতুন প্রভাত’। এটি পরিচালনা করেছিলেন মোস্তফা মেহমুদ। এতে নূতনের নায়ক ছিলেন আনসার। নিজের সাফল্যের গল্প নিয়ে নূতন বলেন,‘আমার শুরুটা এতো চমৎকার হবে তা কখনোই আমার ভাবনায় ছিলো না! সুমিতা দিদির (অভিনেত্রী সুমিতা দেবী) কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে, তিনি আমাকে আমার স্বপ্নের পথে পা বাড়াতে সহযোগিতা করেছিলেন। সেই সঙ্গে পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ ভাইয়ের কাছেও আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।’ ছোটবেলায় নূতন গানের প্রেমেই মজে থাকতেন বেশি। পুরোনো দিনের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন ‘আমি খুব ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে জড়িত ছিলাম।  আমার গান  গাওয়া সম্পর্কে কেউ তেমন কিছুই জানে না। ছোটবেলায় গানের প্রতি আমার অদম্য নেশা ছিলো। যে কারণে আমি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিখেছিলাম। তারপর এক সময় নাচের প্রতি আমার দারুণ আগ্রহ জন্মায়। গানে বিরতি দেই। আমার ভালোলাগা বেড়ে যায় নাচের প্রতি। ময়মনসিংহের মঞ্চে আমি অভিনয়ও শুরু করি। গান আমি গাইতে পারতাম কিন্তু এক সময় সব হিসাক নিকেষ বদলে গিয়ে হয়ে গেলাম নায়িকা।’ নতুন প্রভাত, ওরা ১১ জন ও সংগ্রাম-এ কাজের পর চলচ্চিত্রাভিনয় থেকে প্রায় পাঁচ বছরের বিরতি নিয়েছিলেন নূতন। কারণটা একেবারেই ব্যক্তিগত। এরপর তিনি অভিনয়ে ফের নিয়মিত হন নায়করাজ রাজ্জাকের ‘পাগলা রাজা’ চলচ্চিত্রের মধ্যদিয়ে। চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শক তাকে এই চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে ভালোভাবেই গ্রহণ করেন। শুরু হয় নূতনের সাফল্যের নতুন পথে হাঁটা। ব্যস্ততা বেড়ে যায় তার। এরপর নূতন নায়ক রাজের সঙ্গে বদনাম, সৎ ভাই, মিস্টার মাওলাসহ আরো অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নায়ক হিসেবে রাজ্জাকের শেষ চলচ্চিত্র ‘মালা মতি’র নাম ভূমিকায়ও ছিলেন নায়করাজ ও নূতন। পরবর্তীতে ‘কাবিন’ চলচ্চিত্রেও নূতন নায়ক রাজের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। একসময় প্রয়াত নায়ক জসীমের বিপরীতে জুটি হয়ে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন নূতন।  রূপের রানী গানের রাজা, নাচে নাগিন, সাহস ইত্যাদি চলচ্চিত্রে নূতনের অভিনয় দর্শকপ্রিয়তাও পায়। নায়করাজ ব্যতীত অন্য যারা নূতনকে নিয়ে কাজ করেছেন, প্রত্যেকেই তার গ্ল্যামারকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে খুব বেশি একটা পাওয়া যায়নি নূতনকে। সেই আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন,‘পেশাগত কারণে হয়তো আমি একের পর এক চলচ্চিত্রে কাজ করে গেছি কিন্তু সত্যিই আমার মনের মতো চরিত্র পাইনি।


 

সম্পাদক : মো. সফিকুল ইসলাম, প্রবাসী মাল্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন লি. এর পক্ষে প্রকাশক মো. সফিকুল ইসলাম কর্তৃক বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, ২২ পুরানা পল্টন (৮ম তলা), ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। ফোন : ০১৯৫৫৯৩০৯১৯

Developed by