logo

বুধবার ১৯ এপ্রিল ২০১৭,০৬ বৈশাখ ১৪২৪,২১ রজব ১৪৩৮

ব্যবসার সব রেকর্ড ভেঙে দিলো যে ছবি
১৯ এপ্রিল, ২০১৭
পত্রিকা ডেস্ক
হলিউডের বৈশ্বিক আয়ের রেকর্ড ভেঙে দিলো ‘দ্য ফেট অব দ্য ফিউরিয়াস’। অ্যাকশন থ্রিলার ধাঁচের ফ্রাঞ্চাইজি ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর অষ্টম ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৫৩ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকারও বেশি! এর মধ্যে চীন থেকে মাত্র তিন দিনেই এসেছে ১৯ কোটি ডলার।
বিশ্বব্যাপী হলিউডের আর কোনও ছবি থেকে প্রথম সপ্তাহে এত আয় হয়নি। ‘দ্য ফেট অব দ্য ফিউরিয়াস’ ছাড়িয়ে গেছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’-এর ৫২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের আয়কে। ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ তিন নম্বরে আছে ৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের ব্যবসা নিয়ে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল ছবির তালিকার চার নম্বর স্থানটি ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস-পার্ট টু’র দখলে। এর আয় হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩২ লাখ ডলার।

এসব পরিসংখ্যানকে পুরনো বানিয়ে ইতিহাস গড়ে সবার ওপরে এখন ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস- এইট’। এটি দখল করে নিয়েছে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস চার্টের শীর্ষস্থান। ছবিটির অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সিরিজটির অন্যতম তারকা ভিন ডিজেল। তিনি বলেছেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ, অভিভূত ও ধন্য।’
পরিবেশনা সংস্থা ইউনিভার্সাল পিকচার্স বাজেট না জানালেও বিভিন্ন সূত্র বলছে, ২৫ কোটি ডলারে তৈরি হয়েছে ছবিটি। এটাই এ সিরিজের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সবচেয়ে বড় দৈর্ঘ্যের ছবি। এবারের গল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পারিবারিক বন্ধন ও ভ্রাতৃত্বকে। কাহিনিতে নিজের দলের সঙ্গে ডমিনিক টোরেট্টো আচমকা বিশ্বাসঘাতকতা করে জোট বাঁধে রহস্যময়ী এক হ্যাকারের সঙ্গে। ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’খ্যাত এফ. গ্যারি গ্রে পরিচালনা করেছেন ‘দ্য ফেট অব দ্য ফিউরিয়াস’।
তবে একদিক দিয়ে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর সপ্তম পর্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি অষ্টম পর্বটি। ২০১৫ সালে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ শুধু আমেরিকায় ঘরে তুলেছিল ১৪ কোটি ৭২ লাখ ডলার। কিন্তু নতুন ছবিটি মার্কিন মুলুকে আয় করেছে ১০ কোটি ২ লাখ ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, আগের ছবিতে প্রয়াত পল ওয়াকারকে হারানোর আবেগ ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এবার তার শুন্যতার কারণে আমেরিকায় ব্যবসা কিছুটা কম হলো।
‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্রাঞ্চাইজি কেন এত জনপ্রিয়?

‘ফিউরিয়াস’ সিরিজের শুরুটা হয়েছিল ২০০১ সালে। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা করেই চলেছে এর ছবিগুলো। হলিউডে এখন টাকা আয়ের মেশিন বলা যায় এই ফ্রাঞ্চাইজিকে! ফলে এর আরও দুটি ছবি তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন একটি ছবি ২০১৯ সালে, অন্যটি মুক্তি পাবে ২০২১ সালে।
ব্রিটিশ চলচ্চিত্র সমালোচক রিয়ান্না ধিলন মনে করেন, এ সিরিজের ছবিগুলো সফল হয়েছে সর্বজনীন আবেদনের সুবাদে। তিনি বলেন, ‘এগুলো সব বয়সী দর্শক উপভোগ করে। আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই এ সিরিজে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা দ্রুতগতির গাড়ি নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বিস্ফোরণ এবং ভাঙচুরগুলো দেখে আনন্দ পায়। গল্পের গাঁথুনি না থাকলেও উপস্থাপনা নির্ভেজাল লাগে।’
সমালোচকদের মতে, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের সম্মিলনও বক্স অফিসে এ ছবির ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। এর প্রতিটি পর্বে অনেক তারকার সমাগম দেখা যায়। নিয়মিতদের মধ্যে ভিন ডিজেল থেকে শুরু করে ডোয়াইন জনসন, জেসন স্টেথাম, মিশেল রড্রিগেজ, টাইরিস গিবসন, লুডাক্রিস, নাথালি ইমানুয়েল, কার্ট রাসেল অষ্টম পর্বে আছেন। আর এ ছবিতে খলচরিত্রে অভিনয় করেছেন শার্লিজ থেরন। স্বল্প উপস্থিতির চরিত্রে দেখা গেছে বর্ষীয়ান ব্রিটিশ অভিনেত্রী হেলেন মিরেনকে। এত নামিদামি তারকাকে জড়ো করলে তাদের ভক্তরাই বা দূরে থাকেন কীভাবে!
প্রসঙ্গত, রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সেও চলছে ‘দ্য ফেট অব দ্য ফিউরিয়াস’।

সর্বশেষ খবর

রুপালি সৈকত এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by