logo

বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯

নায়িকানির্ভর আলোচিত ১৩টি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র
১২ জুলাই, ২০১৮
বিনোদন ডেস্ক
বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বেশিরভাগ চলচ্চিই নায়ককেন্দ্রিক। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রও তার ব্যতিক্রম নয়। আগের এ ধারাবাহিকতা ভেঙে হলিউড, বলিউডে নায়িকানির্ভর ছবিও তৈরি হয়েছে। সফলতাও পেয়েছে তার কিছু কিছু। ঢালিউডে নারীপ্রধান সিনেমা একেবারেই কম নয়। আজকের ঢাকাই চলচ্চিত্র যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তার অনেকটাই অবদান রয়েছে চলচ্চিত্রের নায়িকা বা নারীদের। শাবানা, ববিতা, শাবনূর, মৌসুমী, পপিদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক নারীপ্রধান চলচ্চিত্র।

সেসব ছবি ঢাকাই ছবির সোনালি অতীতের সাক্ষী। এ ছবিগুলো কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যের ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখেনি; নারীদের মধ্যে মনোবল সৃষ্টি কিংবা জনমত গঠনে ভূমিকা পালন করেছে। ছবিগুলো পেয়েছিল স্বীকৃতি ও প্রশংসাও।

তারাঝিলমিলের আজকের আয়োজনে ঢালিউডের নায়িকানেন্দ্রিক সেরা ১৩টি চলচ্চিত্র নিয়ে লিখছেন হাসান সাইদুল

১. রূপবান :

১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত লোককাহিনীনির্ভর বাংলাদেশি ছবি রূপবান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সালাউদ্দিন। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সুজাতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন মনসুর, চন্দনা, সিরাজুল ইসলাম, ইনাম আহমেদ, আনোয়ার হোসেন ও সুভাষ দত্ত। বাংলার নারীর ধৈর্য, ত্যাগ ও সংগ্রামের অনবদ্য গাঁথা এটি। একজন নারীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদাবোধের সফল রূপায়ণ ‘রূপবান’। এতে সুজাতা রূপবান চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পান। সত্য সাহার সঙ্গীতায়োজনে এবং আবদুল আলীম ও নীনা হামিদের কণ্ঠে গাওয়া এ ছবির গান এখনও মানুষের মুখে মুখে।

২. সারেং বউ :

১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিটি পরিচালনা করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ছবিতে আবদুল জব্বারের কণ্ঠে গাওয়া ‘ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন ফারুক, কবরী, আরিফুল হক, জহিরুল হকসহ আরও অনেকে। শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে ‘সারেং বউ’ নির্মিত হয়। এ ছবিতে নবিতন চরিত্রে অভিনয়ে কবরী জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।

৩. গোলাপি এখন ট্রেনে :

১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সফল বাংলাদেশি ছবি এটি। নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে আমজাদ হোসেন ছবিটি নির্মাণ করেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন ববিতা, ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রোজী সামাদ, আনোয়ারা, এটিএম শামসুজ্জামান প্রমুখ। আমাদের সমাজের বাস্তবতায় একজন খেটে খাওয়া গ্রামীণ নারীকে পদে পদে কত সমস্যায় পড়তে হয়, তা দেখানো হয়েছে এ ছবিতে। কিন্তু দৃঢ়প্রত্যয়ী নারী নিজের মর্যাদাবোধ নিয়ে এগিয়ে চলেন। এর গানগুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়। ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ১২টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। ববিতার ক্যারিয়ারে এটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

৪. সূর্য দীঘল বাড়ি :

১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আরও একটি সফল ছবি। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী। বিশিষ্ট গ্রন্থাকার আবু ইসহাকের ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত কালজয়ী উপন্যাস ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত হয়। এটিই বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন ডলি আনোয়ার, রওশন জামিল, জহিরুল হক, আরিফুল হক, কেরামত মাওলা, এটিএম শামসুজ্জামান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অবিভক্ত ভারতের বাংলায় ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ‘পঞ্চাশের আকাল’ নামে যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, সেই দুর্ভিক্ষে লাখো দরিদ্র মানুষ প্রাণ হারায়। যারা কোনোমতে শহরের লঙ্গরখানায় পাত পেতে বাঁচতে পেরেছিল তাদেরই একজন স্বামী পরিত্যক্ত জয়গুন। সঙ্গে তার মৃত প্রথম স্বামীর ঘরের ছেলে ও দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের মেয়ে। আরও আছে মৃত ভাইয়ের স্ত্রী-পুত্র। তারা গ্রামে ফিরে এসে এমন একখণ্ড জমিতে ঘর তৈরি করে যেটি অপয়া ভিটে বলে পরিচিতি ছিল। দুর্ভিক্ষ, দরিদ্রতা, মাতৃত্ব সর্বোপরি এক নারীর জীবন সংগ্রামের দৃশ্য ফুটে উঠেছে এ চলচ্চিত্রে। ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ৬টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী নারী জয়গুন চরিত্রে ডলি আনোয়ারের অনবদ্য অভিনয় তাকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার।

৫. ভাত দে :

১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘ভাত দে’ ছবিতে দেখা যায়, জরি একজন গরিব বাউলের মেয়ে। ছোটবেলায় অভাবের কারণে মা চলে যায়। অন্ধ বাউল বাবার অভাব-অনটনের সংসারে সে বড় হতে থাকে। জরি যখন বড় হয়, একদিন বাবাও ভাত জোগাড় করতে গিয়ে মারা যায়। এরপর শুরু হয় সহায়-সম্বলহীন এক দরিদ্র নারীর জীবন সংগ্রাম। আসে প্রেম ও অতঃপর করুণ পরিণতি। আলমগীর, শাবানা, আনোয়ার হোসেন অভিনীত সিনেমাটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ মোট ৯টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। জরি চরিত্রে অভিনয় করে শাবানা তার সেরা চলচ্চিত্র দিয়ে ঘরে তুলে নেন জাতীয় পুরস্কার। এ ছাড়া বাংলা ছবির মধ্যে ‘ভাত দে’ প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়।

৬. হাঙর নদী গ্রেনেড :

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সরকারি অনুদানে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধে নারীর ত্যাগ-তিতিক্ষার অসাধারণ রূপায়ণ এ ছবি। গল্পের কেন্দ্রে থাকে হলদি গাঁ আর সেই গ্রামের এককালের দস্যি মেয়ে বুড়ি। বয়সে অনেক বড় চাচাতো ভাই গফুরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ফলে রাতারাতি গফুরের আগের পক্ষের দুই ছেলে সলিম ও কলিমের মা হয়ে যায়। বুড়ির কোলে আসে নিজের সন্তান রইস। কিন্তু আর ১০টি শিশুর মতো স্বাভাবিক নয়। ১৯৭১ সালে কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের সন্তানকেই মুক্তিযোদ্ধা বলে হানাদারদের হাতে তুলে দেন। সুচরিতা, সোহেল রানা, অরুণা বিশ্বাস অভিনীত এ ছবিটি চারটি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী নারী চরিত্র বুড়ি চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় স্বরূপ জাতীয় পুরস্কার ঘরে তুলেন সুচরিতা।

৭. ম্যাডাম ফুলি :

প্রয়াত নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘ম্যাডাম ফুলি’ মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। সিমলা অভিনীত প্রথম ছবি এটি। এ ছবিতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন সিমলা। তিনিই প্রথম অভিনেত্রী যিনি তার অভিষেক চলচ্চিত্রেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছবিটিও ছিল একটি নারীপ্রধান গল্পের।

৮. মোল্লা বাড়ির বউ :

পুরোপুরি কমেডি ঘরানার ছবি হলেও এটি ছিল ধর্মান্ধতার সমাজে নারীর অসহায়ত্ব ও নারীর লড়াইয়ের চিত্র। ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ ২০০৫ সালে মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেন সালাউদ্দিন লাভলু। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মৌসুমী, শাবনূর, রিয়াজ, এটিএম শামসুজ্জামান প্রমুখ। এই ছবিতে রিয়াজের দুই বউয়ের চরিত্রে দেখা যায় মৌসুমী ও শাবনূরকে। যারা ছিল ছবির গল্পের প্রাণ।

৯. নিরন্তর :

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘জনম জনম’ অবলম্বনে আবু সাইয়ীদের অন্যতম সেরা একটি ছবি ‘নিরন্তর’। মুক্তি পায় ২০০৬ সালে। বাবার অন্ধত্বের কারণে তিথিদের পরিবারে আকস্মিক দুর্যোগ নেমে আসে। কোনো চাকরি জোগাড় করতে না পেরে তিথি অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। এ ছাড়া বয়ে বেড়ায় শৈশবের নির্যাতনের স্মৃতি। ছোট ভাইয়ের ব্যবসায় এক সময় তিথিদের পরিবার সচ্ছলতা ফিরে পায়। তিথিও দেহব্যবসা ছেড়ে দেয়। কিন্তু তার জীবন দিন দিন ফ্যাকাসে হতে থাকে। কোথাও কথা বলার একজন মানুষ খুঁজে পায় না। শাবনূর, লিটু আনাম, ইলিয়াস কাঞ্চন, ডলি জহুর অভিনীত এ ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননাসহ বাংলাদেশের হয়ে অস্কারে প্রতিনিধিত্ব করে। চিত্রনায়িকা শাবনূরের ক্যারিয়ারে এ ছবিটি অনন্য হয়ে থাকবে।

১০. খাইরুন সুন্দরী :

এ কে সোহেল পরিচালিত ‘খাইরুন সুন্দরী’ ছবিটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী। তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। এ ছবিটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে। একইসঙ্গে ছবিতে মমতাজের গাওয়া ‘খাইরুন লো...’ শিরোনামের গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ছবির গল্পটি ছিল একজন নারীর প্রতি তার স্বামীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে। গ্রামীণ নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেমন করে স্বামীর ভালোবাসাবঞ্চিত হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করে নেয় তারই একটি গল্প ছিল এখানে। এ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য মৌসুমী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১১. গেরিলা :

প্রয়াত সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ ও পরিচালকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নির্মিত নাসিরউদ্দিন ইউসুফের চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। মুক্তিযুদ্ধ সময়কার গ্রামীণ ও শহুরের প্রেক্ষাপটে অপূর্ব সংমিশ্রণ এ ছবির প্রধান চরিত্র বিলকিস। সেও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, দেশের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেয়। সরকারি অনুদানে নির্মিত অনন্য এ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ১১টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। বাংলা চলচ্চিত্রে অন্যতম শক্তিশালী নারী চরিত্র বিলকিস রূপদানদারী জয়া আহসান জিতে নেন জাতীয় পুরস্কার।

১২. অগ্নি :

আরিফিন শুভ ও মাহি অভিনীত প্রথম ছবি ‘অগ্নি’। মুক্তি পেয়েছিল ২০১৩ সালে। এ ছবির মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো পুরোপুরি অ্যাকশনধর্মী নায়িকা হিসেবে দর্শকের সামনে আসেন মাহি। ছবিটিতে তুলে ধরা হয় এক নারীর লড়াইয়ের গল্প। পরে ২০১৫ সালে ছবিটি সিকুয়্যাল তৈরি হয়।

১৩. সুতপার ঠিকানা :

একজন নারীর শৈশব থেকে বার্ধক্য পুরো জীবন কাটে বাবা, স্বামী, সন্তানদের আশ্রয়ে। এর মাঝেও কিছু নারী নিজের ঠিকানা খুঁজতে চেষ্টা করে। তেমনিই এক নারী সুতপা। সরকারি অনুদানে নির্মিত এ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছে অপর্ণা ঘোষ। পুরো ছবি তিনি একাই টেনেছেন, কুমার বিশ্বজিতের সঙ্গীতায়োজন ছিল প্রশংসনীয়, ধারা বর্ণনায় আসাদুজ্জামান নূর অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করেছে। ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও অর্জন করেছে।

সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সালে ঢাকাই সিনেমায় নতুন করে দৃষ্টি কাড়েন অ্যাকশনধর্মী নায়িকাকেন্দ্রিক সিনেমা ‘বিজলি’। পশ্চিমা ধাঁচের এ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ববি। এছাড়া ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘তিন কন্যা’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘বস্তির রানী সুরিয়া’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘মৌসুমী’, ‘চার সতীনের ঘর’, ‘রানী কেন ডাকাত’সহ আরও অনেক ছবি আছে যা নারী প্রধান হিসেবে ঢাকাই ছবিকে সমৃদ্ধ করেছে।

সর্বশেষ খবর

রুপালি সৈকত এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by