logo

বুধবার, ৬ জানুয়ারি ২০১৬ . ২৩ পৌষ ১৪২২ . ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

ভূমিকম্পে নড়াইলে স্কুলভবনে ধস খোলা মাঠেই চলছে পাঠদান
০৬ জানুয়ারি, ২০১৬

নড়াইল : ভূমিকম্পে স্কুলের ভবনে ধস, ঝুঁকি এড়াতে খোলা মাঠে চলছে পাঠদান- আজকের পত্রিকা

তানভীর আহমেদ রুবেল, নড়াইল


নতুন বইয়ের আনন্দ কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের। নড়াইলে ভূমিকম্পে একটি প্রথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ধসে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। খসে পড়ছে দেয়ালের প্লাস্টার ও পলেস্তারা। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ বর্জন করে আতঙ্কগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে খোলা মাঠেই চলছে পাঠদান। দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

সদ্যপ্রাপ্ত নতুন বইয়ের গন্ধে উৎসবে যখন স্কুলের আঙিনা। ঠিক তখনি আকস্মিক ভূমিকম্পে হতাশ হতে হলো শিক্ষার্থীদের। নতুন বই নিয়ে আর বেঞ্চে বসা হলো না। নড়াইল জেলা শহর থেকে পূর্বদিকে প্রায় ৪০ কি.মি. দূরত্বে চরাঞ্চলের দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে স্থাপিত হয়। পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলা সীমারেখার চতুর্দিকে নদীবেষ্টিত হওয়ায় বিচ্ছিন্ন এ জনপদ অনেকাংশেই অবহেলিত। তারপর গত ৪ জানুয়ারির ভূমিকম্পে এ জনপদের একমাত্র ৮৮ নং চরপাচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ধসের ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। খসে পড়ছে দেয়ালের প্লাস্টার ও পলেস্তারা। বিমের রডগুলোও মরিচা ধরে ফুলেফেঁপে উঠেছে। এ অবস্থায় পাঠদানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ বর্জন করে আতঙ্কগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রধান শিক্ষক ও অত্র বিদ্যালয়ের এসএমসি।

১৯৯৮ সালে মশিউর রহমান (বাবু) নামে এক ব্যক্তির ঠিকাদারিত্বে বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী হওয়ায় সামান্য ভূমিকম্পের ঘটনায় ভবনের এমন অবস্থা হয়েছে। যা নড়াইলসহ অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ধসের ঘটনা শোনা যায়নি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি তদন্তের দাবিও জানান স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবরা।  বিদ্যালয়টি প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আবুতাহের লস্কর, এসএমসি সভাপতি ফরিদ আলী খান এবং জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য মোঃ ফায়েক আলী খান  বলেন আকস্মিক ভূমিকম্পে বিদ্যালয়ের বর্তমানে যে অবস্থা তাতে এর মধ্যে কোন ভাবেই কলাস করা সম্ভব নয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত সংস্কারের দাবিও জানান তারা।ভূমিকম্পে নড়াইলে স্কুলভবনে ধস খোলা মাঠেই চলছে পাঠদান



অভিভাবক আবু তালেব লস্কর ও লিপন খান জানান, নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী হওয়ায় সামান্য ভূমিকম্পে স্কুলের ভবনটি এভাবে ধসে গেছে। এ ব্যাপারে একটি তদন্তের দাবিও জানান তিনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সামান্য ভূমিকম্পেই ভবনটির এ দুরবস্থা। অচিরেই ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা তদন্ত করে দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

খোলা আকাশের নিচে রোদ আর ধুলাবালিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোমলমতি শিশু-শিক্ষার্থীদের এ দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। অচিরেই এই দুর্ভোগ নিরসনের দাবি শিক্ষার্থীদের।

স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা খানম, নীরব এবং ৫ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ জানায়, সকালে স্কুলে এসে ভবনে ধস দেখে তারা ঘাবড়ে যায়। পরে শিক্ষকরা এসে অবস্থা দেখে পরে আমাদের নিয়ে খোলা মাঠে ক্লাস নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা জানান, অত্র বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষককে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং  দ্রুত নিজে পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 


সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by