logo

রোববার, ১০ জানুয়ারি ২০১৬ . ২৭ পৌষ ১৪২২ . ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

সৈয়দপুরে পাখির অভয়াশ্রম
১০ জানুয়ারি, ২০১৬

সৈয়দপুর (নীলফামারী) : পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার জন্য গাছে গাছে কলস বাঁধার কাজ করছেন যুবকরা - আজকের পত্রিকা

নীলফামারী প্রতিনিধি
গাছের ডালে ডালে রশি বাঁধানো কলসিগুলোতে মুখ দিয়ে উঁকি দিচ্ছে রং-বেরঙের পাখি। পাখিগুলো নিশ্চিত নিরাপত্তায় কিচির-মিচির সুরে ডাকছে তাদের কৃত্রিম বাসায়। কোন কোন বাসায় আবার বাচ্চাগুলো মা পাখিটির ঠোঁট হতে খাদ্য কেড়ে নিতে ডাকছে। এ দৃশ্যটি এখন সৈয়দপুরের অনেক গাছেই দেখা যাচ্ছে। যেন দর্শনার্থী কিংবা বহিরাগত শত্রুদের আক্রমণ হতে বাচার জন্য যথার্থ একটি নিরাপদ বাসস্থান তারা পেয়েছে। আর এ মহৎ কাজটি করেছেন পাখিপ্রেমি সেতুবন্ধন নামে একটি বন্ধুদের সমন্বয়ের সংগঠন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতা মধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর হতে খাতা মধুপুর। আবার শহরের ফাইলেরিয়া হাসপাতাল, প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল, খাদ্য গুদাম (সংরক্ষিত এলাকা), কয়ানিজ পাড়া, মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, থানা চত্বর, খানকা শরীফসহ পুরো উপজেলা চত্বরে প্রায় পাঁচ হাজার গাছে বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাটির কলস। এর মধ্যে রয়েছে বাসা তৈরির অন্যান্য উপকরণ। খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর এলাকার যুবক আলমগীর হোসেন ও বন্ধুদের নিয়ে পাখি নিধন রোধে এবং বংশ বৃদ্ধির নিরাপদ ব্যবস্থায় পাখিদের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা করে বন্ধুদের নিয়ে একটি তহবিল গঠন করেন। এরপর তারা গত ২ বছর ধরে বিভিন্নভাবে সমিতির মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে একত্রিত করেন। আর এ টাকা দিয়েই তারা কলস কিনে পাখিদের আবাসের জন্য রশি দিয়ে গাছে গাছে লাগিয়ে দেন। গত তিন মাসে এ কলসগুলোতে নির্ভয়ে বাসা বেধেছে নানা ধরনের পাখি। শালিক, শ্যামা, ঘুঘু, পেঁচা পাখিগুলো এখন নিশ্চিত নিরাপত্তায় সেখানে রাত-দিন কিচির মিচির ডাকছে।

পাখিদের নিয়ে এ ভাবনা বিষয়ে আলমগীর বলেন, পাখিরা না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে না। তাছাড়া কৃষিতে পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষি চাষাবাদে ভূমিকা রাখছে। সর্বোপরি মানুষ সুযোগ পেলেই পাখিদের নিধন করছে। তাই বিশেষ নিরাপত্তায় আমাদের নজরদারি থাকবে যাতে অন্যায়ভাবে কেহ পাখি না ধরে। রফিকুল ইসলাম, রাশেদুজ্জামান রিফাত, রাফি, সিরাজুল, টুইংকেলসহ সকলেই একই মতামত প্রকাশ করেন। তাই এসকল কলসের কৃত্রিম পাখির বাসার গাছটিতে সাইনবোর্ড দিয়েছেন, ‘এসো পাখির বন্ধু হই, সুন্দর এ পৃথিবীকে বাঁচাই।’

তারা আরো জানান, এটি হচ্ছে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যার নামকরণ দেয়া হয় সেতু। আর এ কাজে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডল পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন।

এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম পলাশের সাথে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগটি সকলের মধ্যে থাকা উচিত ছিল। তাহলে আমাদের অনেক পাখি আজ বিলুপ্ত হত না। এ যুবকরাই এখন পাখি নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে। যা আমাদের প্রকৃতিসহ কৃষিতেও ভূমিকা রাখবে।

এ উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, ওরা পাখি রক্ষার সংগ্রাম করে চলেছে। প্রকৃতির জন্য এধরনের উদ্যোগ ভালো। তাদের কাজের সহযোগিতা ও গাছে বেঁধে দেয়া কলস চুরির হাত থেকে বাঁচাতে এলাকার লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা ম-ল জানান, এটি খুব ভালো ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাদের এবং সকলের সহযোগিতায় পরিবেশ ও খাদ্য উৎপাদনে এই উদ্যোগ ভালো সুফল বয়ে আনবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by