logo

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি ২০১৬ . ২৯ পৌষ ১৪২২ . ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মহাসড়কে কৃষকদের বিক্ষোভ
১২ জানুয়ারি, ২০১৬

মহাসড়কের ধান ফেলে ও ধানের ভ্যান-ট্রলি এলোমেলো করে রেখে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় সোয়া দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে কৃষকরা। পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের ময়দানদিঘি হাটে সোমবার সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ কৃষকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা মহাসড়কের ধান ফেলে ও ধানের ভ্যান-ট্রলি এলোমেলো করে রেখে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

পরে বোদা উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সোয়া ২ ঘণ্টা পর মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয়। সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ধান বিক্রি করতে ময়দানদিঘি হাটে আসে। গত হাটগুলোতে ধান বিক্রি হলেও আজকে ধান কেনার কোন ব্যবসায়ীই ছিল না। কোন ব্যবসায়ী ধান না কেনায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে ধান ফেলে ও ধানের ভ্যান ট্রলিগুলো এলোমেলো করে রেখে মহাসড়ক অবরোধ করে।

কৃষকরা জানান, সার, কিটনাশক, বীজসহ সব কৃষি উপকরণের দাম বাড়লেও ধানের দাম বাড়ছে না। ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় সবক্ষেত্রেই অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘি মহাজনপাড়া এলাকার কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, বিক্রির জন্য ধান নিয়ে আসছি হাটে। ব্যবসায়ীরা ধান না কিনে কাটা খুলে রেখেছে। ধানের দাম নেই। তাই আমরা কৃষকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি।

বোদা উপজেলার মীরপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান জানান, নিম্নে ৭-৮শ’ টাকা ধানের দাম হলে কিছুটা পোষায়। এর কম হলে আমরা বাঁচতে পারব না। বোদা উপজেলার তেপুখুরিয়া এলাকার কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, ১০ বছর আগে ধানের দাম ৪শ’ টাকা ছিল। তখন সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম অনেক কম ছিল। ওই সময় লবণের কেজি ছিল ৬টাকা এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০-২৫ টাকা। সারের বস্তা ছিল ২০-২৫০ টাকা। এখন সারের বস্তার দাম ৮শ’ টাকা। অন্যান্য জিনিসপত্র তো আছেই। শুধু কি তাই ছেলেমেয়েদের ভর্তি ফি, বেতন, তাদের শিক্ষাপোকরণের দাম অনেক বেড়েছে। সবকিছুর দাম বেড়েছে কিন্তু ধানের দাম নেই। এভাবে কি আমরা টিকে থাকতে পারব?

বোদা উপজেলার ধনিপাড়া এলাকার কৃষক জয়নউদ্দিন জানান, এক মণ ধান বেচে এক কেজি ভুট্টার বীজ কিনতে পারি না। ধান বিক্রি করে আজকাল কিছু করতে পারি না। আগে ধান বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের কাপড়সহ পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো সম্ভব হতো। ধান বিক্রি করে মেয়ে বিয়ে দেয়া যেত। কিন্তু এখন ধান বেচে খরচের টাকাই উঠছে না। আমরা ধানের ন্যায্যদাম দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

এদিকে অবরোধের কারণে সাইকেল, মোটরসাইকেলসহ কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাড়ে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। পথচারী ও যাত্রীরা সাময়িক দুর্ভোগে পড়ে। খবর পেয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আউয়াল, বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

ন্যায্যমূল্যে ধান কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, ধানের দাম বৃদ্ধির জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করবেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেন। সংসদ সদস্য বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করবেন বলে কৃষকদের জানালে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by