logo

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি ২০১৬ . ২৯ পৌষ ১৪২২ . ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

ধানের ছড়ায় শিশুর ভাতের জোগান!
১২ জানুয়ারি, ২০১৬

পটুয়াখালী : বাড়তি আয়ের যোগনদাতা ময়না - আজকের পত্রিকা

রহমান সিদ্দিক, বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
ধানের ছড়ায় শিশুর ভাতের জোগান। দক্ষিণ বাংলার ধান ক্ষেতের চিরচেনা দৃশ্য। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এখন ধান কাটার ধুম। কেটে নেয়া ধানের খেতে ছড়া টুকিয়ে (সংগ্রহ) গরীবের ঘরের ভাতের জোগান দিচ্ছেন চরাঞ্চলীয় শিশুরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে স্কুল বন্ধ করে কিংবা স্কুল শেষে শিশুরা ধানের উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে সংসারের বাবার আয়ের সাথে বাড়তি যোগান দাতা সুবিধা বঞ্চিত শিশু। প্রতিবেলায় থালায় ভাত আসতে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম ঝরাতে হয় ওই উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের। উপজেলার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে একই পরিবারে ৪-৫ কিংবা ততদিক ছেলে মেয়ে থাকায় ওই শিশুরা বাবা মায়ের অতিরিক্ত বোঝা হয়ে বসবাস করে। ওইসব পরিবারে একই কর্তব্যাক্তির কামাইয়ে সংসারের ভরণ-পোষণ কষ্টসাধ্য। যে কারণে পড়ালেখা বন্ধ করে ছেলে সন্তানদের বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে দেয়া হয়।  

পরি ভানু (৮)বলেন, ‘মোরা ৩ ভাই-বুইন। বাহের (বাবার) একা কামাইয়ে সোংসার চলে না। মায় কয় পরালেহা দিয়া কি করবি? পেডে ভাত নাই। মোর বাহে মানষের লগে ধান কাডার বদলা দেয় আমি ছরা টোহাই।

শিশু ময়না (৯) জানান, পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে সংসার তার। পরিবারে বাবার একমাত্র রোজগারে সংসার চলে না। তাই সাংসারিক দায়ভার কিছুটা নিজের কাঁধে, তাই বাধ্য হয়ে নিজেকে কাজ করতে হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধানের উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে বাবার সাথে বাড়তি আয়ের জোগান তার। ৭-৮ বছরের শিশু পরি সংসারের ক্ষুধা নিবারণের জন্য স্কুলের বারান্দায় পা রাখতে পারেনি। কিন্তু নিজের খেলাধুলার জীবনকে বিসর্জন দিয়ে বাবার সাথে আয়ের জোগান দিয়ে সংসারের হাল ঠিকই ধরে রেখেছেন। ময়না ও পরির মতো শত শিশুর কষ্টের কামাইয়ে সংসার চলে ওই উপজেলার অসংখ্য পরিবারের।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by