logo

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি ২০১৬ . ২৯ পৌষ ১৪২২ . ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

কুষ্টিয়ায় মধুচাষে মধুময় সংসার শাহজাহান আলীর
১২ জানুয়ারি, ২০১৬

কুষ্টিয়া : বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হচ্ছে মানসম্মত খাঁটি সুস্বাদু মধু -আজকের পত্রিকা

আরিফ মেহমুদ, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী ৬ জেলায় সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ মানসম্মত খাঁটি মধু উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষেতে মৌমাছি বিচরণের ফলে পরাগায়ণের মাধ্যমে বাড়ছে সরিষার ফলন। সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিলে সরিষার উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মধু বিদেশে রফতানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়ায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের দুপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। এর মাঝেই ১ মাস আগে বসানো হয়েছে মৌমাছি চাষের ২০০ বাক্স। মৌমাছির দল আস পাশের সরিষা ক্ষেতে উড়ে উড়ে মধু সংগ্রহ করে বাক্স বন্দি মৌচাকে জমা করছে। আর সেখান থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হচ্ছে মানসম্মত খাঁটি সুস্বাদু মধু।

মধু খামারি শাহজাহান আলী জানান, দেড় মাস ধরে এই মধু সংগ্রহ চলবে। তিনি আশা করছেন এর থেকে কমপক্ষে ৪ টন মধু উৎপাদন হবে। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে এ মধু ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে উৎপাদিত মধুর বেশির ভাগটায় ভারতে রফতানি করা হয়। পরে এই মধু ভারতের ডাবর কোম্পানিসহ বিভিন্ন কোম্পানির নামে বাজারজাত হয়। তখন বাংলাদেশে সেই মধু কিনতে হয় ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে। শাহজাহানের এই মৌ খামার থেকে প্রতিদিনই স্থানীয় মানুষ মধু কিনে নিয়ে যায়। অনেকে শখের বসেও এই খামার দেখতে আসেন। মধুতে বর্তমানে শাহজাহানের মধুময় সুখের সংসার।

স্থানীয় কৃষক হারুন আলী জানান, মৌ চাষের এই দৃশ্য তাদের উদ্বুদ্ধ করছে। মৌ চাষে তাদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামীতে তারাও এই পদ্ধতিতে মধু আহরণের উদ্যোগ নিবেন বলে জানান। এলাকার আরেক কৃষক বিরাজুল ইসলাম বলেন, সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণের বিষয়টি আগে তাদের জানা ছিল না। সরকারি সহযোগিতা পেলে তারাও মৌচাষে উদ্যোগী হবে বলে জানান।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, শুধু বিত্তিপাড়া নয় কুষ্টিয়ার বড়িয়াসহ পশ্চিমের ছয় জেলা তথা মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর ও কুষ্টিয়ায় ২০০০ বাক্স বসিয়ে এই মৌসুমে সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ করা হচ্ছে। এর থেকে উৎপাদিত হবে কমপক্ষে ৫০ টন মধু। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক খায়রুল আবরার জানান, চলতি মৌসুমে ও কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোর জেলায় মোট ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। তবে মাত্র ১০-১২টি স্থানে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণ করা হচ্ছে। সব সরিষা ক্ষেত মৌচাষের চাষের আওতায় আনলে বিপুল পরিমাণ মধু আহরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখছে সরকার। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশারাফুজ্জামান জানান, ক্ষেতে পাশের লাখ লাখ মৌমাছি থাকায় তারা ফুলে ফুলে বসে সুষ্ঠু পরাগায়ণে সাহায্য করছে। এতে সরিষার ফলন ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, এলাকার চাষিদের মধ্যে মৌচাষে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষক এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছেন। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কিঙ্কর চন্দ্র দাস জানান, সরিষা ক্ষেতে মৌচাষের মতো সম্ভাবানাময় খাতকে তারা যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার কথা চিন্তাভাবনা করছেন। আগামীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই চাষ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by