logo

শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ . ৩ মাঘ ১৪২২ . ৫ রবিউস সানি ১৪৩৭

শেরপুরের মাছের মেলার সাথে বসে অন্যান্য মেলাও
১৬ জানুয়ারি, ২০১৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আবহমান ঐতিহ্যের স্মারক পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে নানামুখী পার্বণ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে শেরপুরের মাছের মেলা। এই মেলাকে ঘিরে মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ ও সিলেট অন্তর্ভুক্ত বিস্তীর্ণ জনপদের লোক সমাগমে প্রতি বছর উৎসব মুখর হয়ে উঠে তিন জেলা সঙ্গমস্থল শেরপুর অঙ্গন। শুধু মাছ নয়, হরেক পণ্যের সমাহারে বিস্তৃত হয় মেলার পশার। বরাবরের মতো এবার ও তার ব্যতিক্রম ধরেনি। ৩ জেলার কয়েক লক্ষ গ্রাহক উপস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবারে সরগরম হয়ে উঠে শেরপুরের মাছের মেলা।

প্রাকপ্রেক্ষাপট : অগ্রহায়ণ উৎসবের পর পৌষ মাসে সংঙ্গতভাবেই গ্রামীণ জনপদে এক সময় আমেজিভাব জেঁকে বসতো। ঘরে ঘরে পিঠাপুলির আয়োজনের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নসহ শিরনি মাহফিলের ঘনঘটা ছিল প্রতি জনপদে। তারই যোগ সূত্রে পৌষ সংক্রান্তির আগমনে জমে উঠত গ্রামীণ মেলা। বৃহত্তর আঙ্গিকে এই গ্রামীণ মেলার গোড়া পত্তন হয়েছিল মৌলভীবাজার সদরের অবলুপ্তি পাট শিল্পাঞ্চল মনুমুখ বাজারে। মনু ও কুশিয়ারা নদী সংঙ্গম স্থল মনুমুখে এ মেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আনুমানিক ১৮৯০ সনে। জন শ্রুতি আছে মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা মনুমুখে পাট শিল্প স্থাপনের পর তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পৌষ সংক্রান্তির গ্রামীণ মেলা বর্ণাঢ্য অবয়ব ধারণ করে। আয়োজিত মেলার রকমারি পণ্যের সাথে যুক্ত হয় নিকটবর্তী হাওর অঞ্চলের বড় বড় মাছ। তাই ‘মাছের বাজার’ হিসেবে মেলাটির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে। মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সিলেটের হাওরসমূহ থেকে সরবরাহকৃত বড় বড় মাছ কেনার জন্য ছুটে আসতেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আমিষ ভোগীরা। স্টিমার বোঝাই হয়ে মেলার মাছ ছুটে যেত ঢাকা নারায়ণগঞ্জ, আসাম ও কলকাতায়। কিন্তু সময়ের পালাবদলের সাথে মেলার ও স্থান বদল ঘটেছে অবলীলায়। মনু ও কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনের মুখে মনুমুখ বাজারের অস্থিত্ব বিপন্ন হলে এবং মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের প্রস্থানের সাথে পাট ব্যবসা নুয়ে পড়লে মাছের মেলাও ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যায়। ১৯৭২ সন থেকে মনুমুখের মাছের মেলার স্থানান্তর ঘটে নৌবন্দর হিসেবে খ্যাত শেরপুরে। চার দশকের ধারাবাহিকতায় শেরপুরের মাছের মেলা এখন চৌকস অবয়ব ধারণ করেছে। ১ দিনের মেলা গড়ায় ৩ দিনে। শুধু মাছ নয়, হরেক পণ্যের সমাহার ঘটে এখানে। যশোর থেকে খেজুর গুড়, বগুড়া থেকে দই মিষ্টান্ন, বেলাবো থেকে ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা সরাসরি এসে এখানে স্টল সাজান। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা আসেন তাদের পণ্য নিয়ে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে মাছ কেনা বেচাই হয়ে উঠে মুখ্য। স্বল্প বিত্তসম্পন্নরাও মেলা থেকে সাধ্য অনুযায়ী বড় মাছ কিনে নেন।

মাছের মেলার সাথে জুয়াসহ অন্যান্য মেলা : নামে মাছের মেলা হলেও এই মেলার সাথে যুক্ত হয়েছে জুয়া, পুতুল নাচ, সার্কাস এবং হাউজি বাম্পারের মহোৎসব। দশদিগন্ত ভেঙ্গে উড়তি বয়সিরা তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে এবং পথপাশে বসেছিল ছোট বড় দেড় সহস্রাধিক জুয়ার আসর। তারই সমান্তরালে পুতুল নাচের বাহানায় জমে উঠে নগ্ন নৃত্য। মেলার স্থানে স্থানে পুলিশি টহল থাকলেও সব কিছু চলেছে তার আপন গতিতে।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by