logo

রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৬ . ৪ মাঘ ১৪২২ . ৬ রবিউস সানি ১৪৩৭

মাধবপুরে গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধা শাহারাজের কষ্টের কথা
১৭ জানুয়ারি, ২০১৬
হীরেশ ভট্টাচার্য্য হিরো, মাধবপুর, (হবিগঞ্জ)
কবি জসিম উদ্দিন আসমানী কবিতায় আসমানী অভাব অনটনের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা যেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজের সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে। শাহরাজ মিয়ার বয়স এখন ৭০-এর কাছাকাছি। পিতা জহর আলীর ২য় সন্তান শাহরাজ মিয়া। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রাক্তন এমপিএ মৌলানা আসাদ আলীর উৎসাহ অনুপ্রেরণায় ভারতের আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে যৌবনে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেন। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া ৩ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ৩নং সেক্টরের অধীনে নাছিরনগর, লাকাই মাধবপুর এলাকায় গেরিলা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। গেরিলা যুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, হবিগঞ্জের লাখাই রামপুর মধ্যবর্তী স্থানে মাঝি ছদ্মবেশে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া খেয়াঘাটে লোক পারাপারের কাজ করেন। একদিন তার নৌকায় ৬জন পাক সৈন্য উঠলে কৌশলে মাঝ নদীতে নৌকা ডুবিয়ে ৬ সৈন্যকে হত্যা করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রেল স্টেশনের ছনবাঁশের একটি কুঁড়েঘরে শাহরাজ মিয়া তার স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে দারিদ্র্য ও বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। এরপরেও ’৭১-এর বীর সেনা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া ইটাখোলা রেল স্টেশনের কাছে একটি গণকবর সংরক্ষণের কাজ করছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা সন্তোষপুর, মীর্জাপুর, ইটাখোলা এলাকার ১৫/১৬ জন নিরীহ মানুষকে সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরিয়ে গুলি করে হত্যা করে রেল লাইনের পাশে একটি গর্তে গণকবর দেয়। এ গণকবরটি সংরক্ষণের কেউ উদ্যোগ নেয়নি। তবে মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া এ স্থানটিকে চিহ্নিত করে বেড়া দিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, এ গণকবরটি খনন করলে অনেক মানুষের হাড় ও মাথার খুলি পাওয়া যাবে। মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া বলেন, ১৯৮৭ সালে একটি স্বাধীনতা বিরোধী চক্র মিথ্যা ডাকাতি মামলায় জড়িয়ে ১৪ মাস জেল খাটিয়েছে। এ মামলায় পড়ে জমিজমা ভিটেবাড়ি সব বিক্রি করে এখন রেলের জায়গায় সামান্য কুঁড়েঘরে বসবাস করেন। অর্থের অভাবে শ্বাসকষ্ট হার্নিয়া রোগী শাহরাজ মিয়া চিকিৎসা পাচ্ছে না। দারিদ্র ও রোগের সঙ্গে লড়াই করে কোনরকমে বেঁচে আছেন সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া। সরকার তার নামে ২৫ শতক জমি দিলেও এখনও এর দখল পায়নি। প্রতিদিন শাহরাজ মিয়া সরকারি জায়গাটি পাওয়ার আশার ভূমি অফিসে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা। উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মালেক মধু মিয়া বলেন, রেলের সামান্য জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া অতিকষ্টে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে আছেন। সরকারি জমিটি তার দখলে দেয়া হলে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে এই জায়গায় বসবাস করতে পারতেন। নিজের জমিজমা বাড়িঘর না থাকলেও ’৭১-এর বীর সেনা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শাহরাজ মিয়া ইটাখোলা গণকবরের সংরক্ষণে কাজ করছেন। এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বন্দোবস্তের কাগজপত্র নিয়ে আসলে মুক্তিযোদ্ধার জায়গা উদ্ধার করে তাকে সমজিয়ে দেয়া হবে।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by