logo

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ . ৫ মাঘ ১৪২২ . ৭ রবিউস সানি ১৪৩৭

সৌর বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত চা শ্রমিকের ঘর
১৮ জানুয়ারি, ২০১৬

মাধবপুর : তেলিয়াপাড়া চা বাগানে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল -আজকের পত্রিকা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
চা বাগান এলাকা। বিদ্যুতের খুঁটি গাছপালা ও বাঁশঝাড়ের কারণে চা বাগান এলাকায় বিদ্যুৎ বিরাট সমস্যা। চা বাগান এলাকায় শুধু চা বাগান ফ্যাক্টরি ও বাবু সাহেবের বাংলো বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের ঘরে কোনো বিদ্যুতের আলো নেই। কেরোসিনের প্রদীপ দিয়ে শ্রমিকরা অন্ধকার দূর করে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু সৌর বিদ্যুতের আলোতে চা শ্রমিকের প্রতিটি ঘর প্রায় এখন আলোকিত। বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শ্রমিক সন্তানরা বিদ্যুতের আলোতে লেখাপড়া ও বৈদ্যুতিক পাখা, টিভি দেখা ও মোবাইল ফোন চার্জ করতে পারছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া, সুরমা, জগদীশপুর, বৈকুন্ঠপুর, নোয়াপাড়া ও সাতছড়ি চা বাগান এলাকায় শত শত শ্রমিকের ঘরের চালে দেখা মেলে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল। চা বাগানের লোকজন বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কিস্তির মাধ্যমে এসব সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল কিনছেন। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক সুবল ভোমিজ বলেন, চা বাগান এলাকায় শ্রমিকের ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া বাগানবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। কিন্তু কারখানার আস পাশ এলাকায় কিছু ঘরে বিদ্যুৎ থাকলেও বৃটিশ আমল থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত শ্রমিক এলাকায় কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহে উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বর্তমানে চা বাগানের ঘরে শ্রমিকদের নিজস্ব খরচে সৌর বিদ্যুৎ কেনায় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ১৬ নং বস্তির সুমন সাওতাল জানান, সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের কোনো চিন্তা নেই। তাই বাগান এলাকায় একটু সচ্ছল পরিবার সবাই এখন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছে। সুরমা চা বাগান মাহঝিল শিক্ষক সুকুমার বলেন, চা বাগান এলাকায় গাছপালা বেশি থাকায় শ্রমিকদের দাবি থাকলেও লাইন টেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু শ্রমিকরা এ বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা না করে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা ভর্তুকি দিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেয়। কিন্তু সৌর বিদ্যুতে যদি সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিত এতে সরকার ও জনগণ খুবই লাভবান হতো। চা বাগান এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে শ্রমিকরা এখন আগ্রহী হয়ে উঠছে। মাধবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান বলেন, মাধবপুর ৫টি চা বাগানে কয়েক হাজার চা শ্রমিক পরিবার রয়েছে। তাদের বাড়িতে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ পৌঁছানো চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি। সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তিকে আরো উন্নতর করে সরকারিভাবে শ্রমিকদের ঘরে ঘরে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে শ্রমিকরা আরো লাভবান হবে।

 

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by