logo

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ . ৫ মাঘ ১৪২২ . ৭ রবিউস সানি ১৪৩৭

ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে পিটুনি, সভাপতি বহিষ্কার
১৮ জানুয়ারি, ২০১৬

রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু - মিজানুর রহমান রানা

রাবি সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তিনকর্মীকে পিটিয়েছে সভাপতি গ্রুপ। এই ঘটনার জের ধরে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এম. মিজানুর রহমান রানাকে বহিষ্কার করে সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শৃঙ্খলা ভাঙার দায়ে রাবি বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি এম. মিজানুর রহমান রানাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এবং শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কোনো জায়গা কখনো হয়নি। এখনও তার ব্যতিক্রম হবে না।’

নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এই খবর জানানো হয়েছে। আমি আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করার চেষ্টা করবো।’

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ‘বহিষ্কারের পর সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রানাসহ তার সহযোগীরা শনিবার রাত ৩টার দিকে হল ত্যাগ করে। ভারপ্রাপ্ত নতুন সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু সকালে তার কর্মীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করে। এসময় রাঞ্জু ড. জোহা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।’

এদিকে, ছাত্রলীগ কর্মী বনিকে মারপিটের ঘটনায় তার সমর্থকরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর গেটে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ১৫ মিনিট ধরে অবরোধ করে রাখে। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আহত তিন ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক মাহমুদ বনি, লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সাকিবুল হাসান বাকি এবং ফাইনেন্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাত হোসেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক মাহমুদ বনিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনিক মাহমুদ বনি ৩০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নেতা শহীদুল ইসলামের ভাতিজা। শহীদুল ইসলাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত। এছাড়া আহত সবাই স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী।

অভিযুক্তরা হলেন বঙ্গবন্ধু হলের সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) মেহেদি হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মাহবুবুর রহমান পলাশ, সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, সোহরাউয়ার্দী হলের সভাপতি রাজীব শিকদার, তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ‘শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের সামনে সভাপতি গ্রুপের বঙ্গবন্ধু হলের সহ-সভাপতি মেহেদি হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ, সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি রাজীব শিকদার, তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামানসহ আরো কয়েকজন প্রথমে বাকি ও সাজ্জাতকে মারতে থাকে। বিষয়টি দেখে বনি সেখানে গেলে তারা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে অতর্কিতভাবে পাইপ দিয়ে পেটাতে শুরু করে। পরে বনি আত্মরক্ষা করতে দৌড়াতে থাকে। পেছনে সভাপতি গ্রুপের এই নেতাকর্মীরাও ছুটে। বনি দৌড়ে মেইন গেট দিয়ে বেতারের মাঠ পর্যন্ত চলে যায়। সেখানেই বনিকে পেটানোর পর ওই ছাত্রলীগ কর্মীরাই অটোরিক্সায় করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরর হমান ও শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেক নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলগুলোতে মহড়াও দেয় বলে জানা যায়।’

বনির সহযোগী বলেন, ছাত্রলীগকর্মী বাকি এবং সাজ্জাদের সঙ্গে সভাপতি গ্রুপের ছেলেদের ঝামেলা চলছিল। বিষয়টি দেখে বনিভাই সেখানে গেলে তারা কোনো কারণ ছাড়াই অতর্কিতে তার উপর হামলা চালায়।

ছাত্রলীগ কর্মী সাকিবুল হাসান বাকি বলেন, মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান রেজা তার খালাতো বোনদের নিয়ে ক্যাম্পাসে বেড়াতে এসেছিল। সেসময় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক পলাশ, সহসভাপতি মেহেদীসহ কয়েকজন মিলে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি হাসান রেজা আমাকে জানালে আমি সেখানে যাই। গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা আমাদের মারধর করে। 

এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, ‘কর্মীদের মধ্যে গালাগালির একটি বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে বসে আমরা তা ঠিক করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করেছিলাম। তবে এখন আর সেই সুযোগ রইলো না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্রলীগ নেতা জানায়, ‘বনিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা মহানগর আওয়ামী লীগের সমর্থনে চলতো। তাই ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তঃদ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই জের ধরে আজকের এ মারামারির ঘটনা ঘটেছে।’

তবে অশোক চৌহান আরো বলেন, ‘আহত বনির সমর্থকেরা বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করে। আমরা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আশস্ত দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। এখন সবকিছু শান্ত আছে।’

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) অশোক চৌহান বলেন, ‘শনিবার বিকেল ৪টার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের  একটি বৈঠক ছিলো। ওই বৈঠকে যাওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে বনি নামের এক ছাত্রলীগকর্মী আহত হলে তাকে রামেক হাসপতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার আঘাত গুরুতর নয়।’

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by