logo

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ . ৫ মাঘ ১৪২২ . ৭ রবিউস সানি ১৪৩৭

পাবনায় সুচিত্রা সেনের দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবস পালন
১৮ জানুয়ারি, ২০১৬

পাবনা : মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের প্রয়াণ দিবসে আয়োজিত স্মরণসভায় ফুলেল শ্রদ্ধা - আজকের পত্রিকা

পাবনা প্রতিনিধি
ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি দ্রুত সংস্কার করে তার নামে স্মৃতি আর্কাইভ করার দাবি জানিয়েছেন পাবনাবাসী। কিন্তু সে দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। সুচিত্রা সেনের দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় পাবনা প্রেস ক্লাবে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত স্মরণসভায় এ দাবি জানানো হয়।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ পাবনার সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম সাইদুল হকের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য দেন, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. রামদুলাল ভৌমিক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রেস ক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাবেক সভাপতি শিক্ষাবিদ প্রফেসর শিবজিত নাগ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. এম আবদুল আলীম, ছাত্র উপদেষ্টা ড. হাবিবুল্লাহ, পাবনা অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহরে সুলতানা, সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান, কৃষিবিদ অধ্যাপক জাফর সাদেক, রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী আবুল হোসেন, পাবনা ড্রামা সার্কেলের সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. রামদুলাল ভৌমিক বলেন, দেড় বছর হলো সুচিত্রা সেনের পৈতৃক নিবাসটি জেলা প্রশাসন উদ্ধার করার পর আজও সেখানে কোনো কিছু করা হয়নি-এতে আহতবোধ করছেন পাবনার সর্বস্তরের মানুষ। সাড়ে ৩ কোটি টাকার প্রকল্প সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হলেও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। বাড়িটি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দ্রুত সংস্কার করে স্মৃতি আর্কাইভ করার দাবি জানাচ্ছি।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, উদ্ধারকৃত সুচিত্রা সেনের বাড়ি ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক বলয় তৈরী করা হোক। যে বলয় ঘিরে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং প্রাণ সঞ্চার হবে পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. এম আবদুল আলীম বলেন, সুচিত্রা সেনের বাড়িটি বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে আরেকটি অবরুদ্ধ অবস্থায় ফেলা হয়েছে। পাবনার বাতাসে কান পাতলে আজও সুচিত্রা সেনের গান, অভিনয় শোনা যায়। পাবনাকে বিশ্বের দরবারে আরও উচ্চ আসনে নিয়ে গেছে সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উৎসব। সুচিত্রা সেনের জীবন, চলচ্চিত্র নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহরে সুলতানা বলেন, আমরা সবাই সুচিত্রা সেনকে ধারণ করি, লালন করি। আমাদের স্কুলে সুচিত্রা সেনকে নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা তার সম্পর্কে আরও বেশি করে জানতে পারবে।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি বলেন, প্রায় দুই বছর হতে চললো, কিন্তু বাড়িটি একই অবস্থায় পড়ে আছে। আমার মনে হয় সুচিত্রা সেন স্মৃতি পরিষদ ঝিমিয়ে পড়েছে। আন্দোলন আবার বেগবান করা না গেলে জেলার সংস্কৃতিও ঝিমিয়ে যাবে।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ পাবনার সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে বাড়িটি আমরা উদ্ধার করেছি। কিন্তু অবমুক্ত হলেও বাড়িটিতে এখনও আমরা কিছু করতে পারিনি। সুচিত্রার নামে আর্কাইভ করার কাজও বাস্তবায়ন হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করছি, সরকারও আমাদের সাথে একমত। এবছর চলচ্চিত্র উৎসব হবে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

সভার শুরুতে সুচিত্রা সেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সুচিত্রা সেনের প্রতিকৃতিতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অতিথিকরা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিকার স্বাধীন মজুমদার।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by