logo

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৬ . ৬ মাঘ ১৪২২ . ৮ রবিউস সানি ১৪৩৭

শিরোনাম

বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রতিবন্ধী মজিদ এখন দই মিষ্টির কারিগর
১৯ জানুয়ারি, ২০১৬

বগুড়া : জীবিকার তাগিদে নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ এখন নিজেই মিষ্টির কারিগর

আলমগীর হোসেন, বগুড়া
বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ এখন দই মিষ্টির কারিগর। এককভাবে কাজ করতে না পারলেও তার পিতার দোকানে নিয়মিত দই, মিষ্টি, নিমকি, জিলাপিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সামগ্রী তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন তিনি। প্রতিবন্ধী হলেও জীবিকার তাগিদে সংগ্রাম করে চলেছেন প্রতিবন্ধী মজিদ। হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করে। ভারী ও কঠিন কাজ করতে পারে না। নিজের হাতে দই মিষ্টির কাজ করে বর্তমানে সে নিজেই একজন কারিগর। পৃথকভাবে কারখানা করার মতো অর্থ বা সামর্থ্য তার নেই। গরিব ঘরের ছেলে তাই পিতার দোকানে বসেই ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে দই মিষ্টির কাজে সহযোগিতা করেন আব্দুল মজিদ। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদের জীবনের করুণ কাহিনী। উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বীরপলী দক্ষিণপাড়া গ্রামে (হালায়গড়পাড়া) মিষ্টির কারিগর আজিজার রহমানের সহধর্মিণীর কোলজুড়ে জন্ম নেয় প্রথম সন্তান আব্দুল মজিদ। সে জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে পিতা-মাতার আদর সোহাগে পৃথীবির বুকে বেড়ে ওঠে মজিদ। অবহেলায় নয় প্রতিবন্ধী মজিদকে সৃষ্টিকর্তার দেয়া উপহার ভেবেই বুকে আগলে রাখেন পরিবারের সবাই। জন্মের পর দুই হাত আর মুখ মন্ডল দেহ ঠিক থাকলেও মজিদের দুই পা অকেজো। ক্ষুদ্র দু’পা নিয়ে ছোট থেকেই হামাগুড়ি গিয়ে বড় হয়েছে। মজিদের বয়স এখন ২৮ বছর। মজিদের পিতা আজিজার রহমান জানান, ছেলে মজিদ প্রতিবন্ধী হলেও আমার সন্তান। সেও আমার মতো একজন মিষ্টির কারিগর। মজিদকে বীরপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করাই। সমাজের বিত্তবানদের কটাক্ষ আর প্রতিবন্ধী বলে আমার ছেলেকে ধিক্কার দিত। মানুষের কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে প্রতিবন্ধী মজিদ পড়ালেখা ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই মজিদ পরিবারের লোকজনের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ জানায়, তার পিতা আজিজার রহমান দই মিষ্টির কারিগর। বুড়ইল ইউনিয়নের ধুন্দার বাজারে ২০০৬ সালে দই মিষ্টির ক্ষুদ্র একটি কারখানা ও বাজারের মোড়েই একটি দোকান দেয়। তখন থেকে প্রতিবন্ধী মজিদ তার পিতার দোকানে দই মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার সামগ্রী তৈরির কাজে সহযোগিতা করে আসছে। দুই হাতে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই কাজ করে মজিদ। এ কাজে তেমন একটা কষ্ট না থাকলেই ভারী কাজ করার সাধ্য তার নেই। প্রতিবন্ধী মজিদের ছোট ভাই ইমরান জানান, অন্যসব দই মিষ্টির কারিগরের মতই মজিদও একজন । ছোট বেলা থেকেই বাবার সাথে কারিগরের কাজে সহযোগিতা করে। বর্তমানে আমার ভাই মজিদও একজন দই মিষ্টির কারিগর। পৃথকভাবে মজিদ নিজেই একটি কারখানা চালাতে পারবে। কিন্তু সামর্থ্য নেই। অর্থের অভাবে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমার ভাই প্রতিবন্ধী হলেও মনবল বেশি। শারীরিক প্রতিবন্ধী মজিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩বছর ধরে প্রত্যেক ৩মাস পরপর তিনি সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। প্রথম ধাপে ৯০০ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ১২০০ টাকা ও বর্তমানে ১৫০০ টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এই টাকা দিয়ে একজন মানুষের বর্তমান সময়ে টিকে থাকা খুব কঠিন। তাই প্রতিবন্ধী মজিদ তার মনোবলে আর ইচ্ছা শক্তিকে দৃঢ় করে দই মিষ্টির কারিগর হয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেলে আমি নিজেই একটি কারখানা করতে পারতাম। শ্রমিক খাটিয়ে নিজের হাতে দই মিষ্টি তৈরি করে অসহায়ত্ব থেকে চিরমুক্তি পেতাম। যারা আমাকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে, তাদের দেখাতে চাই আমিও সৃষ্টিকর্তার হাতে গড়া মানুষ। সবার মত আমিও নিজের উপর নির্ভরশীল। অনেক প্রতিবন্ধী আছে ভাতা পাচ্ছে না। অনেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চেয়েও বেশি ভাতা পাচ্ছে।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by