logo

বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৬ . ৭ মাঘ ১৪২২ . ৯ রবিউস সানি ১৪৩৭

প্রতিবন্ধী রীতার অদম্য ইচ্ছার শক্তির কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য
২০ জানুয়ারি, ২০১৬
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শিবরামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপাড়া গ্রামের মৃত যদু বর্মণের মেয়ে রীতা রানী। শারীরিক প্রতিবন্ধী রীতার অসুস্থ মাকে নিয়ে বাঁশের তৈরি জীর্ণ খুপরি ঘরে বসবাস। মা প্রমিলা বর্মণ কাজ ও ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান।

অভাব আর দরিদ্রতা জয় করে মেধাবী এ মেয়েটি চালিয়ে যাচ্ছে তার শিক্ষাজীবন। পিতৃহারা মেয়েটি এখন এইচএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী রীতার অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মনেেেছ দারিদ্র্য। পিতার অবর্তমানে সংসারে অসুস্থ মাকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন দেখে সে।

বীরগঞ্জের নিভৃত পল্লী গোবিন্দপাড়া গ্রামের পিতৃহীন শারীরিক প্রতিবন্ধী রিতা রায় ১১ মাস বয়স থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে শিক্ষার আলো গ্রহণ করে আসছে। গ্রামের গোবিন্দপাড়া সোহাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ২০০৮ সালে ৫ শ্রেণি পাস করে পার্শ্বের গ্রামের পাবলিক দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছে প্রকাশ করায় তার বিধবা মা জোস্না বেওয়া মানুষের বাড়িতে ঝির কাজ এবং দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে লেখাপড়ার খরচ জোগান দিয়ে আসছে। খেয়ে না খেয়ে রীতা রায় মায়ের জোগান দেয়া সামান্য অর্থের উপর ভর করেই তার লেখাপড়া চালিয়েছে। কোনো রকম প্রাইভেট পড়া ব্যতীত সে ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় (৩ দশমিক ৬৩) মার্কস পেয়ে মানবিক বিভাগে  বি গ্রেডে পাস করে।

এসএসসি পাস করার পরেও রীতা রায় লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চায়। তাই তার মা এবং বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে আবারো ভর্তি হয়। এইচএসসিতে ভর্তির পর তার কষ্ট আরো বেড়ে যায়। গ্রামের বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব ২২ কি.মি.। যাতায়াতের এই দীর্ঘ পথ হেঁটে এবং ভিক্ষে করে বাসের ভাড়া এবং নিজেদের খাওয়ার পয়সা উঠাতে হতো তাকে। শত কষ্টের মাঝে হার মানেনি রীতা রায়, প্রতিদিন সে কলেজে যেত। যে কারণে কলেজে তার উপস্থিতির হার ৯০ ভাগ বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধী রিতা রায় জানান, আজ যতটুকু শিক্ষার আলো সে পেয়েছে সমস্তটাই তার মায়ের অবদান। মানুষের বাড়িতে ঝির কাজ এবং ভিক্ষাবৃত্তি করে যে আয় হতো সেখান থেকেই তার মা তাকে লেখাপড়া করার জোগান দিয়েছে এবং ৩ বেলার জায়গায় একবেলা অন্ন জুগিয়েছে। পৈতৃক সহায় সম্পত্তি না থাকায় বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে। আর তখন থেকেই সংসারের ঘানি টানতে মা জোস্না বেওয়াকে মানুষের বাড়িতে কাজ ও ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে।

রীতা রায় তার ভবিষ্যৎ ইচ্ছে জানাতে গিয়ে বলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের প্রবল ইচ্ছে রয়েছে তার। শিক্ষক হয়ে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কাজ করতে চায়। আর এ জন্য তার উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারে সরকারসহ সমাজের সবার সহযোগিতা কামনা করেছে রীতা। শিবরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান চনক চন্দ্র অধিকারী জানান, রীতার শিক্ষার জন্য তার মা প্রতিদিন এক রকম যুদ্ধ করে চলেছে।

বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল ইসলাম জানান, গোবিন্দপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী রীতা রায় এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার লেখাপড়ার অদ্যম ইচ্ছা রয়েছে বলেই আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা দিয়ে ফরম পূরণ করিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস রীতা ভালো ফলাফল করবে। আমরা তার সাফল্য কামনা করছি।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by