logo

বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৬ . ৭ মাঘ ১৪২২ . ৯ রবিউস সানি ১৪৩৭

মাধবপুরে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়!
২০ জানুয়ারি, ২০১৬

হবিগঞ্জ : মাধবপুরে উপজেলা সদর সংলগ্নে স্থাপিত টিএন্ডসি ইটভাটায় ফসলি জমির উর্বর মাটি এভাবেই সরবরাহ করা হচ্ছে - আজকের পত্রিকা

হীরেশ ভট্টাচার্য্য হিরো, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবাধে গড়ে ওঠা ইটভাটায় ফসলি জমির উর্বর মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে সবুজ ফসলের মাঠে, জনবসতির কাছাকাছি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি, খাল-নদীর পাড় ধ্বংস করে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। ইটভাটা কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মধ্যস্বত্ব ভোগী মাটি ব্যবসায়ী। কৃষিজমি ধ্বংস করে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত করা হলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে উপজেলা সদরের ৪ কিলোমিটারের ভিতর ৪টি এবং ১০ কিলোমিটারের ভেতর ২টি ভাটায় এ কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে কৃষি জমি হতে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করার মহোসৎব চললেও অজ্ঞাত কারণে চোখে পড়ে না উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, জেলা প্রশাসনসহ পরিবেশ অধিদফতরের লোকদের। ইটভাটার ক্ষেত্রে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক অনুমোদনের পর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন থাকতে হয়। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি বা টপসয়েল ব্যবহার করলে প্রথমবার ২ বছর কারদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা, দ্বিতীয়বার অনুরোপ কাজের জন্য ২ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমান অথবা ২ বছর থেকে ১০ বছরের কারদণ্ডের বিধান রেখে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ এর খসড়া করা হয়েছে। সেই সাথে লাইসেন্সবিহীন ভাটা পরিচালনা করলে ১ বছরের কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। আবাসিক, জনবসতি, সংরক্ষিত, জলাভূমি, বনভূমির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করলে এক বছরের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা এবং কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করলে ৩ বছরের জেল ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে আইনটি অনুমোদিত হয়। ফসলি জমির উর্বর মাটি সরবাহের ফলে জমিগুলো আগামী ১০-১১ বছরের জন্য উর্বরতা হারাবে বলে স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিকুল হক বলে টপসয়েল সরবরাহ রোধ করতে জেলা পর্যায়ের সভায় এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানগণকে নিয়ে জমির মালিকদের বুঝানো হলেও তা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান। ইটভাটায় ফসলি জমির উর্বর মাটি ব্যবহারের বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মো. ছালাউদ্দিন চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইটভাটা ও জমির মালিকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম জানান, উর্বর মাটি সরবরাহের বিষয়টি আমার জানা নেই। ফসলি জমির মাটি সরবরাহের বিষয়ে টিএন্ডসি ইটভাটার মালিক শাহজাহান বলেন, আমি শুধু একাই মাটি ব্যবহার করি না, উপজেলার প্রত্যেকটি ইটভাটাতে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমির মাটি ব্যবহার করা হয়। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য সরকার কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনে কৃষিজমিকে শুধু কৃষি কাজেই ব্যবহার করা যাবে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া জমির ভূ-প্রকৃতির কোনো পরিবর্তন করা যাবে না এবং অনাবাদি জমিকে আবাদের আওতায় আনার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও অত্র উপজেলায় ঘটছে তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by