logo

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৬ . ৮ মাঘ ১৪২২ . ১০ রবিউস সানি ১৪৩৭

আতঙ্কের নাম ওসি সুবির দত্ত
২১ জানুয়ারি, ২০১৬

সুবির দত্ত

নাটোর প্রতিনিধি
একসময় সর্বহারা আর বাংলা ভাইয়ের আতঙ্কের জনপদের নাম ছিল নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা। কিন্তু এখন বাংলা ভাই আর সর্বহারা না থাকলেও নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্তের চাঁদাবাজি আর নির্যাতনে অসহায় হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্তের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা আইজিপি, ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তবে সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের কাছে ছুটে যান নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জি। পরে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্ত নাটোর সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক থাকা অবস্থায় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় তার চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এমন অভিযোগ উঠলে তাকে নাটোর থেকে বদলি করে দেয়া হয় অন্যত্র। সবশেষ খুলনা জেলার কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই সুবির দত্ত। রাজনীতির ছাড়ায় এসে সে আবার ফিরে আসে নাটোরের নলডাঙ্গার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে।

ভুক্তভোগীরা জানান, কোনো মামলা না থাকলেও মামলা রয়েছে বলে সাধারণ মানুষদের থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্তের হুকুমে। এরপর জামায়াত-শিবিরের নাশকতা, হিরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মামলার ভয় দেখানো হয় সাধারণ মানুষদের। মোটা অংকের টাকা না দিলে ওই সব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও হুমিক দেয়। এসব মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং সম্মান হারানোর ভয়ে অনেকেই তাকে চাঁদা দিতে বাধ্য হন।

নলডাঙ্গা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্ত নলডাঙ্গা থানায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্নভাবে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করে আসছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, নলডাঙ্গায় থাকতে হলে চাঁদা দিয়ে থাকতে হবে। না হলে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সাবেক একজন জনপ্রতিনিধিকে এমনি ভাবে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্তের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নলডাঙ্গা থানায় তিনি যোগদান করার পর থেকে মাদক, চাঁদাবাজি বন্ধ করেছেন। কিছু যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ রটানো হচ্ছে। কোনো সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা নির্যাতন করা হয়নি।

তবে ফোন আলাপের একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্ত বলেন, চাঁদাবাজির টাকা শুধু তার পকেটে যায় না, খোদ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে মোটা অংকের টাকা পৌছে দিতে হয়।

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্তের চাঁদাবাজি আর সাধারণ মানুষদের মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জি সাংবাদিকদের কাছে অবহিত হন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নলডাঙ্গার সমসখলসি গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগি শফিকুল ইসলাম লালুসহ বিভিন্ন জনের সাথে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চাঁদাবাজি আর মিথ্যা মামলা নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সুপার। এসময় ভুক্তভোগিরা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হয়রানি আর চাঁদাবাজির কথা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by