logo

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ . ১০ মাঘ ১৪২২ . ১২ রবিউস সানি ১৪৩৭

শীত আর কুয়াশায় দিনাজপুরের জনজীবন স্থবির
২৩ জানুয়ারি, ২০১৬

দিনাজপুর : আগুন পোহাচ্ছেন শীতার্তরা -আজকের পত্রিকা

মো. আব্দুর রাজ্জাক, দিনাজপুর
মাঘের শুরুতে দিনাজপুরে হঠাৎ গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির পর থেকে শীত জেঁকে বসেছে। হিমেল হাওয়া আর কুয়াশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তর জনপদের জেলা দিনাজপুরের ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। বীজতলা নিয়ে চিন্তিত কৃষক। শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর আবহাওয়া আফিসের সিনিয়র অবজারভার কর্মকর্তা তজিবর রহমান জানায়, দিনাজপুরের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ প্রবাহিত হওয়ায় ঠান্ডার পরিমাণ বেড়ে গেছে। আরো কয়েকদিন এই ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।  তিনি আরো জানায়, দিনাজপুরে বাতাসের আর্দ্রতা আছে ৯৫ শতাংশ, সর্বনিম্ন তাপমাত্র আছে ১২. ২ যা গত কালের চেয়ে কম।   মঙ্গলবার রাত থেকে এ গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির পরদিন থেকে শীতের প্রকোপ বাড়ে। জনজীবনেও অচলাবস্থা। মাঝারি শৈত্য প্রবাহে গত বুধবার থেকে হিমেল বাতাসে শীতে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।  হঠাৎ করে আবহাওয়া বদল হওয়ায় শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বৃদ্ধরা।  দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিন আলম রাজ জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জন শিশু। এবং শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডে ৪৭ জন শিশু চিকিসাধীন রয়েছে। তবে এর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে তিনি জানান। দিনাজপুর অরবিন্দু শিশু হাসপাতালে গত দুদিনে শিশু ভর্তির হার বেড়ে গেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৯২ জন শিশু শীত জনিত রোগে ভর্তি হয়েছে বলে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রেম কুমার রায় জানান। শীত জনিত রোগের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জেলা সিভিল সার্জেন অফিস সুত্রে জানা যায়। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে খুবই কষ্টে আছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো। শুক্রবার ছুটির দিন এবং ঠান্ডা হিমেল হাওয়ার কারণে দিনাজপুর শহর যেন জনশূন্য। শহরে লোকজনের সংখ্যা একেবারে কম। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে চাননা। শ্রমিকরা কাজে নামতে পারেনি। এমন অবস্থা কৃষি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও।

শীতে জনজীবন অচল হওয়ার পাশাপাশি বীজতলার ক্লোড ইনজুরির কবলে পড়েছে। শীতের কুয়াশায় বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে পড়েছে। মাঝারী ধরনের শৈত্য প্রবাহ ও কুয়াশার কারণে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার বীজতলা হুমকির মুখে পড়েছে। তবে রোদ উঠলেই এ সমস্যা কেটে যাবে বলে কৃষি বিভাগ বলছে। হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় রবি শস্যেরও ক্ষতির সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। বীরগঞ্জের কৃষক মো. শাহাজাহান সিরাজ বুলবুল জানান, গত দুদিন ধরে সূর্যের দেখা যায়নি। এতে শীত ও কুয়াশার কারণে আমার বীজতলার রং হলুদ হয়ে পড়ছে। বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতে স্প্রে ব্যবহার করতে হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এরকম শৈত্য প্রবাহ চললে বোরো চাষের জন্য সদ্য বপণকৃত বীজতলার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রোদ উঠলেই এ সমস্যা কেটে যাবে।

 

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by