logo

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ . ১০ মাঘ ১৪২২ . ১২ রবিউস সানি ১৪৩৭

পঞ্চগড়ে চলাচল উদ্বোধনের দু-তিন দিন পরেই সড়কে গর্ত ও ফাটল
২৩ জানুয়ারি, ২০১৬

পঞ্চগড় : নির্মাণের দুদিনের মাথায় উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং -আজকের পত্রিকা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে পুনর্নির্মাণের ৮ দিনের মাথায় ভেঙ্গে গেছে পঞ্চগড় চিনিকল ভায়া মাড়েয়া-দেবীগঞ্জ সড়ক। বন্ধুর হয়ে যাওয়া এ সড়কটির ১৭ কিলোমিটার সড়কে পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও পাথর ও বালু সরে গেছে। সঠিকভাবে কিউরিং ও রোলিং না করায় গোটা সড়কটি উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা এ বিষয়ে অভিযোগ করলে সওজের একটি প্রতিনিধিদল গত বুধবার (২০ জানুয়ারি) সরেজমিন সড়কটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পেলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সওজের কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা তো নেয়া হয়নি, কোন তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি।

নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার, সঠিকভাবে পাথর, বালি ও বিটুমিনের মধ্যে মিশ্রণ না হওয়া এবং ঠিকমতো রোলিং না করায় সড়কটি এমন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। 

সওজ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পঞ্চগড় চিনিকল ভায়া মাড়েয়া-দেবীগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আঞ্চলিক সড়কটির ১৭ কিলোমিটার পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে পাবনা জেলার ধ্রুব কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সওজর সঙ্গে ছয় কোটি ৮১ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজ শুরু করে। সড়কটি পুনঃ নির্মাণে আট ইঞ্চির ২টি বালু ও পাথরের লেয়ার বেষ্টিত দেড় ইঞ্চি কার্পেটিং করা হয়। বালু পাথরের মিশ্রণের ওপরে বিটুমিন প্রাইম কোড ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি কাজটি শেষ হলে পথচারি ও যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু ৮ দিনের মাথায় সড়কটির বিভিন্ন জায়গা ফুলে উঠে। প্রায় কয়েক কিলোমিটার সড়কে গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হয়। নির্মাণের কয়েকদিন পরেই সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার (২০ জানুয়ারি) সওজ রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সওজের একটি প্রতিনিধিদল সড়কটি পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দিনাজপুর অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বুলবুল হোসাইন ও পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দিকীও ছিলেন।

বকদুরঝুলা এলাকার শামিম, নজরুল, ইয়াছিন আলী, টাকাহারা এলাকার ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান (৫৫) ইয়াকুব আলী (৬৩) শেখ ফরিদসহ এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুণগত ও পরিমাণগত উপকরণ ব্যবহার না করায় সড়কটি ব্যবহারের দু-তিন দিনের মাথায় ভাঙ্গতে শুরু করে। সড়কটি নির্মাণ কাজের সময় সওজ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল কম আর তদারকিতে ছিল সওজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং কাজের সময় উপস্থিতি না থাকা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নি¤œমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার করায় পুরো সড়কটিই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় লোকজনদের অভিযোগ, ধুলাঝাড়ি হাট থেকে টাকাহারা হাট পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা শোচনীয়। তাদের মতে, বালু ও পাথর ফেলার পর ঠিকমত কিউরিং ও রোলার না করায় সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়া ও উঁচু-নিচু হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

সড়ক নির্মাণ কাজে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানান, ‘গুণগতমান সম্পন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিমাণ সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নীলফামারী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দিকী পঞ্চগড় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে তথ্য জানতে ও কথা বলতে গিয়ে পঞ্চগড় সওজ অফিসে কোন কর্মকর্তাকেই পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইল ফোনে পঞ্চগড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে সড়ক নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করার কথা জানান। উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার নম্বরটি সুইচ অফ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ধ্রুব কন্সট্রাকশন লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদেরও কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by