logo

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ . ১৩ মাঘ ১৪২২ . ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৭

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য কাঠের ঢেঁকি
২৬ জানুয়ারি, ২০১৬

গ্রামবাংলার চিরায়িত সেই ঢেঁকি আর তেমন একটা দেখা যায় না - আজকের পত্রিকা

শাহীন আলম, দেবিদ্বার
অ বউ ধান ভানোরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, ঢেঁকি নাচে বউ নাচে হেলিয়া দুলিয়া, বউ ধান ভানোরে, ধান বেচিয়া কিনমু শাড়ি, পিন্দিয়া যাইমু বাপের বাড়ি, স্বামী যাইয়া লইয়া আইব গরুর গাড়ি দিয়া ও বউ ধান ভানোরে...। গ্রামবাংলার চিরায়িত সেই ঢেঁকি আর ঢেঁকির তালে সেই গান আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিকতার  উৎকর্ষতার দাপটে  গ্রামের নববধূরা ঢেঁকির কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানেনা। যান্ত্রিকতার নির্মম আগ্রাসনে সেই ঢেঁকি এখন আর চোখে পড়ে না। আবহমান গ্রামবাংলার প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে এক সময় ঢেঁকির প্রচলন ছিল। দিনান্তের কাজের মধ্যে বাড়ির নববধূসহ নারীদের ব্যস্ত সময় কাটত ঢেঁকির সঙ্গে। ঢেঁকিতে ধান ভেনে চাল বের করে রাতসহ পরবর্তী দিনের খাবার যোগানো হতো। তাই প্রতিদিন বিকেল হলে গ্রামে গ্রামে শোনা যেত ঢেঁকির শব্দ। সেই সঙ্গে বাহারি রকমের আঞ্চলিক গান। ফলে শারীরিক দৈনন্দিন পরিশ্রমে নারীরা থাকতেন  নিরোগ স্বাস্থ্যবান। কিন্তু আধুনিকতা আর যান্ত্রিকতার ছোবলে সেই ঢেঁকি তেমন চোখে পড়ে না । গাঁয়ের এ পাড়া অ পাড়ায় এক সময় ঢেঁকি দিয়ে চাল তৈরি, চিড়া ভাঙ্গা,  আটা, পায়েসের চালের গুঁড়ো, ক্ষির তৈরির চাল, কুমড়ো আর কলাই দিয়ে সুস্বাদু সেই ডালের বড়ি ইঞ্জিনচালিত মেশিনের কাছে আজ গ্রামের সেই ঢেঁকি এক প্রকার আত্মসমর্পণ করেছে। ধান ভানা, গুঁড়ো কুটা, বড়ি তৈরি করা, আটা তৈরির চালের গুঁড়াসহ ঢেঁকির যাবতীয় কাজ করছে ইঞ্জিনচালিত মিশিনে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাওয়া ঢেঁকির কথা এখনো গ্রামের প্রবীণ মা-বোনেরা মনে করেন। তারা জানায়, ‘আমরা হগ্গল বান্ধবীরা একে অন্যের বাড়িতে যাইয়া উৎসব মাইত্যা ঢেঁহিতে চাল গুঁড়ো কইরা নানা রহমের পিঠাপুলি বানাইতাম আর একে অন্যের  বাড়িতে গিয়া খাইতাম। এহন আর হেই দিন নাই, সব যেন স্মৃতি! দেবিদ্বার উপজেলার এক গৃহবধূ হাবীবা নাসরিন জানায়, এক সময়কার ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেঁকি আজ কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ। পৌষ-মাঘে  তীব্র শীতে আমাদের মা-চাচীরা বিভিন্ন গানের তালে তালে ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো করে নানা রকমের পিঠা বানাতো।   ঢেঁকির গুণ সম্পর্কে  একটি প্রবাদ বাক্য আছে- ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’ এ প্রবাদ বাক্যটিও এখন খুব কম  শোনা যায়। ঢেঁকিশিল্প গ্রামবাংলার প্রাচীন গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৭০ দশকের সর্বপ্রথম দেশে রাইস মিল বা মেশিন দিয়ে ধান থেকে চাল বের করার প্রচলন শরু হয়, তখন থেকেই ঢেঁকির প্রয়োজনীতা দিন দিন হ্রাস পেতে থাকে। বছর জুড়ে সারা দেশে তের পার্বণ পালিত হতো। এসময় গ্রাম-গঞ্জের কৃষাণ- কৃষাণীরাও  নবান্ন  উৎসব, হেমন্ত উৎসব, পৌষ উৎসব, বিয়ে উৎসব থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎসবে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যেত। আধুনিকতার যান্ত্রিক কবলে গ্রাম-গঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এসব উৎসব আর ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by