logo

বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ . ১৪ মাঘ ১৪২২ . ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৭

যান চলাচলের জন্য খুলেদেয়ার আগেই ধসে পড়েছে সংযোগ সড়ক
২৭ জানুয়ারি, ২০১৬

যশোর : চৌগাছায় চলাচালের জন্য খুলে দেয়ার আগেই ধসে পড়েছে কপোতাক্ষ সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক - আজকের পত্রিকা

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা
যশোরের চৌগাছায় ৩ বছরেও কপোতাক্ষ নদে নির্মিত সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি। আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার আগেই অন্য পাশের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। কপোতাক্ষ সেতু নির্মাণকাজ ২০১৩ সালের গোড়ার দিকে শুরু হয়। সেতু নির্মাণ ও একপাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষে শহরের পার্শ্বে কিছু মাটি ফেলে রাখা হলেও অন্য পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। 

জানা গেছে, নির্মাণের সময় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুটির উভয় পাশে মাত্র ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক ধরা হয়। সেতুটি নির্মাণের পর দেখা যায়, বিদ্যমান বেইলি ব্রিজ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১২ ফুট বেশি। সামান্য সংযোগ সড়কে কোনোভাবেই যান চলাচল সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় আরো বেশি সংযোগ সড়কের কাজ করতে গিয়ে তৈরি হয় নানা জটিলতা। এগুলো কাটাতে কয়েক কোটি টাকার জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সংযোগ সড়কেও বাড়তি বরাদ্দ দেয়া হয়। তারপরও অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে স্থাপনা অপসারণ করে সংযোগ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতার ফলে এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ না হতেই অপর পাশে নির্মিত সড়ক ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় সেতুটি দিয়ে যান চলাচলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা ও  উঁচু টিবি থেকে মাটি গড়িয়ে পড়ে বর্তমান সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঠিকাদার বা সড়ক ও সেতু বিভাগ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। 

কপোতাক্ষ নদ চৌগাছা শহরকে দ্বিখ- করেছে। ব্রিটিশ আমলে নদের ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়। সে সময়ের প্রমত্তা কপোতাক্ষের স্রোতে সেটি ভেঙে পড়ে। পরে একটি কাঠের সেতু দিয়ে এলাকার জনগণ পারাপার হতো। আশির দশকে যোগাযোগ প্রসারের জন্য নদে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মিত হয়, যা পরবর্তীতে এলাকার মানুষের মরণ ফাঁদ হয়ে পড়ে। নতুন সেতু নির্মাণের আগে বেইলি ব্রিজে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় ৯ জন প্রাণ হারান। আহত হন কমপক্ষে ৫০০ নারী, পুরুষ ও শিশু।

অবশেষে মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে কপোতাক্ষ সেতু পুনঃনির্মাণের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়। ২০১৩ সালে সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। সেতুর দৈর্ঘ্য ৫০.১৪ মিটার আর প্রস্ত ধরা হয় প্রায় ১২ মিটার।

বর্তমান বেইলি ব্রিজের পাশেই সেতুটি নির্মাণ করা হলেও উচ্চতা হয়েছে অনেক বেশি। উঁচু সেতুটিকে পূর্বপাশের সড়কে মেলাতে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন এই জমি কালক্ষেপণ শেষে অধিগ্রহণ করা হলেও স্থাপনা অপসারণে পার হয় অনেক সময়।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, সেতু নির্মাণ ও স্থাপনা অপসারণে ধীরগতি শহরের মাঝের সড়কটিতে দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তিন বছর ধরে সেতু নির্মাণকাজ চলায় পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী ও আবাসিক ভবনগুলোর বাসিন্দাদের শব্দদূষণসহ নানা ধরনের অসুবিধায় ফেলছে। ফলে সরকারের একটি গণমুখী উন্নয়ন কাজেও জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সড়ক ও সেতু বিভাগের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবু পাটোয়ারিকে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

 

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by