logo

বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ . ১৪ মাঘ ১৪২২ . ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৭

প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু
২৭ জানুয়ারি, ২০১৬

নাটোর : এলাকা পরিদর্শন করেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল - আজকের পত্রিকা

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর এলাকায় ৩ হাজার ৪১৮.৪৬ একর সরকারী খাসজমির ওপর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল স্থান পরিদর্শন করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সারা দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে এটি একটি। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে লালপুরের নদীভাঙ্গন এলাকার একদিকে যেমন উন্নয়ন হবে তেমনি ব্যাপক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এলাকার জমির মালিকদের মাঝে এ ব্যাপারে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবী সরকারকে তাদের জমির ন্যায্য মূল্য দিয়ে অধিগ্রহণ করতে হবে।

সরেজমিনে নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর এলাকায় গিয়ে জানা গেল সেখানে ৩ হাজার ৪১৮.৪৬ একর খাসজমি রয়েছে। জমিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে রয়েছে। যাদের দখলে চরের জমিগুলো রয়েছে তারা জানালেন, তাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সরকার জমিগুলোর খাজনা নেয় না। অপর একটি সূত্র জানায়, পদ্মার ভাঙ্গনে যাদের জমি বিলীন হয়ে গেছে চরের জমি তাদের দখলে নেই। ফলে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তাদের জীবনমান অত্যন্ত নিম্নমানের। ইতিপূর্বে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীরা এই নদীভাঙ্গন এলাকার মানুষদের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সে প্রতিশ্রুতি পূরণে পরে কোন কাজ হয়নি। বেজার (ইঊতঅ) সিনিয়র সহকারী সচিব খোকন কান্তি সাহা জানান, বর্তমান সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর তত্বাবধানে গভর্নিং বোর্ডে সারা দেশে যে ৪৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন পেয়েছে তার মধ্যে নাটোরের লালপুর একটি। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা নিয়ে যাচাই কাজও শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ইতিমধ্যে দুই দফায় বেজার নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আব্দুস সামাদ এনডিসি ও বেজার নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব এসএম শওকত আলী নাটোরের লালপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত রবিবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উপদেষ্টা অভিষেক মুখার্জীর নেতৃত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল লালপুর পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর এলাকা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তারা বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক বিভাগ, রেলওয়ে কতৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্য বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এবং চর এলাকা ঘুরে সাংবাদিকদের জানান, এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করার মত সকল সুবিধা রয়েছে। তারা লালপুরের পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।

তবে ওই এলাকায় যাদের নিজস্ব জমি রয়েছে বলে দাবি করছেন তারা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মালিকানাধীন জমিগুলো ন্যায্যমূল্য দিয়ে অধিগ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, লালপুরের পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর এলাকায় কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে কৃষি ও কৃষকের মান উন্নয়ন হবে। স্ত বেকার সমস্যার সমাধান হবে অনেক।

এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর এলাকায় ৩ হাজার ৪১৮.৪৬ একর খাসজমি রয়েছে। যার ৯০ ভাগ জমি সরকারি খাস। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হলে বিপুল জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সুযোগের সাথে সাথে এলাকার জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, পদ্মার চরের খাসজমিতে  অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করার মত সকল সুবিধা রয়েছে। পরিদর্শনে আসা ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল সড়ক, রেলওয়ে ও ঈশ্বরদী বিমান বন্দরসহ সকল প্রকার যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সহজেই কাজে লাগানোর সুবিধা যাচাই করেছেন। ওই চরের খাসজমিতে দেশি-বিদেশি শতাধিক কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ফলে এলাকার উন্নয়নের সাথে সাথে স্থানীয় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠির মেধা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হবে। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন হবে। তিনি আরো জানান, শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণে যেসব জমি অধিগ্রহণ করা হবে সরকার তার ন্যায্যমূল্য প্রদান করবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের কথা শুনে তিনি লালপুরের মানুষের উন্নয়নের জন্য পদ্মার চরের সরকারি খাসজমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর তত্বাবধানে গঠিত গভর্নিং বোর্ড তার অনুমোদন দেন। এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সকল প্রকার সুবিধা রয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এই অর্থনেতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ হবে।

লালপুর এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হলে বিপুল জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সুযোগের সাথে সাথে সমগ্র নাটোরের জীবনমানের উন্নয়ন হবে এমনটাই আশা করছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by