logo

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ . ১৯ মাঘ ১৪২২ . ২১ রবিউস সানি ১৪৩৭

কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে সর্বহারা হচ্ছে নবীগঞ্জের দীঘলবাকবাসী
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নবীগঞ্জ : ভাঙন কবলিত কুশিয়ারা নদী - আজকের পত্রিকা

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ
কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে প্রায় সর্বহারা করছে নবীগঞ্জের দীঘলবাকবাসীকে। দীঘলবাকের চারদিকে শুধু ভাঙনের শব্দ। একে একে ভাঙছে দীঘলবাক ইউনিয়নের গ্রামের পর গ্রাম। ভাঙন  ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন পদক্ষেপ। বছরের পর বছরে থেমে থেমে বন্যা ও প্রতিদিনের নদী ভাঙনে দীঘলবাকবাসীর যেন নিত্য সঙ্গি। নদী ভাঙনে গরীব ও ধনীকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। আপদে বিপদে ধনীরা গরীবদের সাহায্য করে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কে কার সাহায্য করে। কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে দীঘলবাক এলাকার বসতবাড়ি, বনজসম্পদ, চাষাবাদযোগ্য ভূমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার উপাসনালয় ইত্যাদি বিলীন হয়ে গেছে। তারপরও কুশিয়ারা নদীর ধ্বংসলীলা রোধ কল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 

নদী সভ্যতার প্রতীক হলেও কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী এলাকাবাসীর জন্য ধ্বংস ও ভয়ানক অভিশাপের প্রতীকরূপে বিরাজমান। তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর নাব্যতা হ্রাস, ঘরবাড়ি, বনজসম্পদ, চাষাবাদযোগ্য ভূমি ও বসতবাড়ি ভাঙ্গন সমস্যা, বন্যার তা-বলীলায় ফসলহানি, নদীতে চর জাগা, নৌযান চলাচল বিপর্যস্ত, মৎস্য সম্পদের অভাব, কুশিয়ারার তীর সংরক্ষণে উদাসীনতা ও স্থানীয় জীবন যাত্রার নিরুমান সেই ব্রিটিশ শাসন থেকে অব্যাহত আছে।

কুশিয়ারা নদীর হিংস্র থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন হয়েছেন বারবার উত্তর নবীগঞ্জের দীঘলবাক, আহমদপুর, কুমারকাদা, গালিমপুর, মাধবপুর, ফাদুল্লা, মথুরাপুর, জগন্নাথপুর উপজেলার আটঘর, নোয়াগাঁও, রানীগঞ্জ, বানিয়াচং উপজেলার এক বিরাট জনগোষ্ঠী। কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে ঐতিহ্যবাহী দীঘলবাক এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বিশাল মানববন্ধন করেছে দীঘলবাকবাসী। 

জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের তীব্রতা রোধকল্পে সামান্যতম হলেও সরকারি নানা পদক্ষেপ, ক্ষতিগস্তদের পুনর্বাসন ও সাহায্য সহযোগিতা করা হয়। কিন্তু নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউপির জনগণকে কোন সরকারি সাহায্য, পুনর্বাসন করা হয়নি, এমনকি যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ভাঙনের তীব্রতা রোধ কল্পে বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যার ফলে উল্লেখিত জনপদের বিভিন্ন পেশার লোকজন চাষাবাদযোগ্য জমি, বাসগৃহ, বনজসম্পদ বারবার হারানোর বেদনায় এলাকার বাতাসে দুঃখ ও হতাশার করুণ ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। উল্লেখিত ইউনিয়নে নদী ভাঙনের ফলে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে যার ফলে দীঘলবাক ইউনিয়নে বেকারত্ব, অশিক্ষা, দরিদ্রতা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নবীগঞ্জের ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর ধ্বংসলীলা বন্ধকল্পে স্থানীয় সমাজসেবী ও দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ আশ্রব আলী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে অব্যাহত এই ভাঙন রোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে আবেদন পত্র পেশ করলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা-৫ এর স্মারক পত্র নং- উঃ৫/বিবিধ-০৭/২০০/২০৭ (তারিখ-১৮-০৬-২০০০) মোতাবেক জরুরী ভিত্তিতে চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (ঢাকা) বরাবরে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিলে তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

তৎকালীন সময়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ এ.এস.এম. কিবরিয়া এমপি ও পাউবোর তৎকালীন মহাপরিচালক মোখলেছুজ্জামান দীঘলবাক ইউপি ও তৎপার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকৃত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এর পরেও ভাঙন রোধের কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।

এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান প্রকৌশলী পাউবো (কুমিল্লা) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশল (মৌলভীবাজার) কে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন যা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মৌলভীবাজার) এই ডায়েরী  নং ২১০৫ তারিখ ২৮/০৬/২০০০ ইং এবং নবীগঞ্জের সাবেক ইউএনও বরাবরে দীঘলবাক এলাকার ভাঙন রোধের জন্য আবেদনপত্র পেশ করলে তিনি ০৬/০৭/২০০০ ইং তারিখে কুশিয়ারা নদীর ধ্বংসলীলা ও প্রমত্ততা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে স্মারক নং- উনিও/নদী/গো:/বিবিধ ৬৫/৯৮-২০০০ইং মোতাবেক জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ডিসি (হবিগঞ্জ) বরাবরে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেশ করেন।

সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শাহ মনসুর আলী নোমান কর্তৃক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সদস্য (পওর) বরাবরে দীঘলবাক এলাকার ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে [ যাহা সদস্য (পওর) ঢাকা এর ডায়রী নং ৯০২ , তারিখ ১৭/০৪/২০০০ মোতাবেক] তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে বলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট  এডভোকেট আনসার খাঁন, নবীগঞ্জের ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় ইউএনও থেকে শুরু করে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারের সময় দীঘলবাকবাসী স্মারক লিপি, আবেদন পত্র পেশ ও মন্ত্রী, এমপিদের সাথে যোগাযোগ করেও  এই এতিহ্যবাহী এলাকাকে রক্ষা করার জন্য বাস্তবমুখী কোন পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়া দুঃখজনক।  দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আজিজুল হক শিবলী বলেন, দীঘলবাক এলাকায় কুশিয়ারা নদীর প্রমত্ততা রোধকল্পে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে স্থানীয় জীবন যাত্রার মান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে, জনগণ রক্ষা পাবে বসতবাড়ি ভাঙনের কবল থেকে, বেকারত্বের অবসান ঘটবে ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। তিনি সরজমিনে তদন্তপূর্বক দীঘলবাক এলাকায় নদী ভাঙন সমস্যার সমাধানকল্পে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by