logo

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ . ১৯ মাঘ ১৪২২ . ২১ রবিউস সানি ১৪৩৭

পিরোজপুরে ইতি হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
মশিউর রহমান রাহাত পিরোজপুর
পিরোজপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার ইতি (৯)-কে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুই অপরাধীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা জজ আদালত। রবিবার পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ গোলাম  কিবরিয়া এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হল জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মেহেদি হাসান  স্বপন (২২) ও সুমন জোমাদ্দার (২০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জেলার মঠবাড়িয়া  উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ফুলমিয়ার ৯ বছরের কন্যা ফাতেমা আক্তার ইতি উপজেলার বুখাইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামে তার নানা মোঃ আব্দুর রব মাস্টারের বাড়িতে থেকে স্থানীয় হাতেমআলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়াশুনা করত। ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে ইতি তার নানার একটি গরু স্কুল মাঠে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়।  দুপুর গড়িয়ে গেলেও ইতি ঘরে ফিরে না আসায় নানা বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরদিন দুপুরে প্রতিবেশী শাহজাহান জমাদ্দারের মেহগিনি ও চাম্বল বাগানে উলঙ্গ অবস্থায় ওড়না পেঁচানো ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ মৃত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার ননী গোপাল  রায় তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ইতিকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

 পুলিশ পূর্বাপর ঘটনার তদন্ত শেষে সন্দেহভাজন ইতির মামাতো ভাই স্বপন ও তার বন্ধু সুমনকে গ্রেফতার করে। পরে সুমন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী দ-বিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে দোষ স্বীকার করে বলে যে, সে বন্ধু স্বপনের প্ররোচনায় তারা দুজনে মিলে ওই দিন ইতিকে বাগদাস (মেছোবাঘ) দেখানোর কথা বলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাশের চম্বল বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ইতিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং  ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

 পিরোজপুর আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি আব্দুর রাজ্জাক খান বাদশা বলেন, মামাতো ভাই স্বপন ইতির বড় বোন বিথিকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। এতে বিথির পরিবার রাজি না হওয়ায় স্বপন প্রতিশোধ নিতে বন্ধু সুমনকে নিয়ে পরিকল্পনা করে যে, ইতিকে ধর্ষণ করে হত্যা করলে ইতির বাবা এবং নানা বাড়ির লোকজন এ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে আর এ সুযোগে স্বপন বিথিকে অপহরণ করে নিয়ে পালিয়ে যাবে।

 মামলাটি বিচারের জন্য জেলা জজ গোলাম কিবরিয়ার আদালতে এলে তিনি সর্বমোট ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ, আলামতসহ আনুষঙ্গিক সব কিছু পর্যালোচনা করলে সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মেহেদি হাসান  স্বপন ও সুমন জোমাদ্দারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন। তিনি রায়ে আরও উল্লেখ করেন যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত এ দুজনকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া তিনি দণ্ডিত দুজনের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা এবং এই জরিমানার অর্থ ইতির মা-বাবাকে প্রদানের নির্দেশ দেন। দণ্ডিতদের উপস্থিতিতে পিন পতন নিস্তব্ধতার মধ্যে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ গোলাম কিবরিয়া ৯৮ পৃষ্ঠার রায় এর মূল অংশ ঘোষণা করে বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশে স্বপন ও সুমনের মত জঘন্য অপরাধীদের বেঁচে থাকার কোন সুযোগ দেয়া হলে এ ধরনের অপরাধীরা অপরাধ কর্মে উৎসাহিত হবে।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by