logo

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ . ২১ মাঘ ১৪২২ . ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৭

শিম চাষ করে স্বাবলম্বী সুুবর্ণচরের কৃষক
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নোয়াখালী : নিজ শিম ক্ষেতে আবদুর রহমান - আজকের পত্রিকা

ইকবাল হোসেন সুমন, নোয়াখালী
খাদ্য শস্যভাণ্ডার খ্যাত নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নিজ উদ্যোগে শিম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে শিমের চাষ। অনাবাদি জমিতে গত এক যুগের মতো নিজ উদ্যোগে কৃষকরা নানা পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করে আসছে।

গত কয়েক বছর সবজি আবাদের তালিকায় যোগ হয়েছে শিম চাষ। এ আবাদ প্রতি বছর বেড়ে চলছে, অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সুবর্ণচরের কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব মতে, গত বছর উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সুবর্ণচরে ১০০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে।

সরেজমিনে সুবর্ণচরের চরজুবিলী, চরবাটা, চরওয়াপদা, চরজব্বর, চরক্লার্ক, মোহাম্মদপুর, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন, হেমায়েতপুর, সৈয়দপুর, ভূমিহীন বাজার ও জনতাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায় এলাকাগুলো যেন শিম দিয়ে ঘেরা। প্রতিটি  পরিবার নিজেদের বাড়ির আঙ্গিনা ও আশ-পাশের জমিতে নানা পদ্ধতিতে শিম চাষ করছে। চরাঞ্চলের বাড়িগুলোর চারপাশ ঘিরে রয়েছে সবুজ শিম গাছে। এখনার বাসিন্দা নুরনবী জানান, এসব চরগুলো নদীগর্ভ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর পূর্বে  জেগে ওঠে। পরবর্তীতে বন বিভাগ এ সমস্ত চরে বনায়ন করে। ১৯৯৮ থেকে বনদস্যুরা বন উজাড় করে বিভিন্ন নদীভাঙা মানুষের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে এই সমস্ত চরের জমি। এরপর শুরু হয় মানুষের বসবাস। বসবাস শুরু হলেও লবণাক্ততার কারণে ওই সমস্ত জমিতে ধান বা রবিশস্য কিছুই উৎপাদন হতো না। কিন্তু গত এক যুগ থেকে এখানে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে নানা পদ্ধতিতে শসা, চিচিংগা, বরবটি, করলাসহ নানা সবজির চাষ শুরু করে। জমিগুলোকে কেটে নালা ও আইলে পরিণত করা হয়।

চরক্লার্ক ইউনিয়নের চর আলা উদ্দিন গ্রামের কৃষক  আবদুর রহমান বলেন, বাড়ির চারপাশের এক একর জমিতে মৌসুম হিসেব করে শসা, চিচিংগা, বরবটি,করলা চাষ করে আসছেন তিনি। এগুলোর পাশাপাশি গত তিন বছর রবি মৌসুমে শিম চাষ শুরু করেন। গত দুই বছর লাভবান হওয়ায় এ বছর পুরো ১০ একর জমিতেই শিম চাষ করেছেন। একটু শারীরিক পরিশ্রম হলেও ফলন ভালো হলে শিম ও সিশের বিচি বিক্রি করে মৌসুমে ৩ লাখ টাকা বিক্রি করেন।

এ বছর পুরো ১০ একরে ১ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকার শিম ও শিমের বিচি বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করেন মৌসুম শেষ নাগাদ ৪ লাখ টাকার শিম ও শিমের বিচি বিক্রি করতে পারবেন। একই গ্রামের  মোস্তফা নগর এলাকার সোলেমান মাঝি (৪০) জানান, তিনি এ বছর ৮ একর জমিতে সিমের চাষ করেন, এতে তার খরচ হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে সাড়ে ৩ লাখ টাকার শিম ও শিমের বিচি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেন।  চর আক্রাম উদ্দিন গ্রামের বেলাল মাঝি (৫০) এ বছর প্রায় ৬ একর জমিতে শিমের চাষ করেছেন। যাতে তার ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান। শিম ও শিমের বিচি বিক্রি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে তিনি জানান।

স্থানীয় মোস্তান নগর বাজারের আড়ৎদার মিয়া মাঝি, আবুল কাশেম, জামাল মেম্বার জানান, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি এই সমস্ত শিম চাষিদের দাদন দিয়ে শিম চাষে উৎসাহিত করা হয়। তাদের উৎপাদিত শিম আমাদের আড়তে আসার পর বিক্রি হলে আমরা প্রতি মণে ২০ টাকা কমিশন পাই।

এখানে নোয়াখালীর বৃহত্তর বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলার পাইকাররা আসেন। ট্রাক ভরে নিয়ে যায় শিম ও শিমের বিচি। এসব চরাঞ্চলের কৃষকরা উৎপাদন করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। আর্থিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা। সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনো সহযোগিতা পান না তারা। বিভিন্ন এনজিও ও কীটনাশক কোম্পানির লোকজনের পরামর্শই তাদের এক মাত্র সহযোগিতা। কৃষকদের দাবি চাহিদা অনুযায়ী স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সংশিষ্ট দফতরের নিয়মিত তদারকি থাকলে কৃষকরা উপজেলার অর্থনীতিকে আরো মজবুত করতে সক্ষম হবে। একই সাথে নিজেদেরও আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বাড়বে।

 সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা  শিমের আবাদ বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, উপজেলার চরাঞ্চলে এটি এখন প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে কৃষকরা সবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। জনবল কম থাকায় এত বিশাল উপজেলার সব কৃষকদের আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না । এর পরও আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের সাধ্যমত পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by