logo

রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ . ১৬ ফাল্গুন ১৪২২ . ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭

রংপুরে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, স্বামী গ্রেফতার
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
রংপুর ব্যুরো
রংপুরে পাষণ্ড স্বামী ও শাশুড়ির ঢেলে দেয়া কেরোসিনের আগুনে দগ্ধ হয়ে গৃহবধূ তাহমিনা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। তার শরীরের অর্ধেকের বেশি অংশ পুড়ে গেছে। যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করার ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছুটে আসেন একনজর দেখার জন্য। খবর পেয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার ঘটনাস্থালে ছুটে গিয়ে দগ্ধ তাহমিনার খোঁজখবর নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিকসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় পুলিশ পাষণ্ড স্বামী আব্দুল মান্নানকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। তাহমিনার মা মরিয়ম বেগম সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ভ্যান চালক আব্দুল মান্নানের সাথে তার কন্যা তাহমিনার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সে যৌতুক হিসেবে জামাইকে ২০ হাজার টাকা দেয়। বিয়ের কয়েক মাস ভালো চললেও এরপর থেকে নেমে আসে তাহমিনার উপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন। এ সময় তাহমিনার খালা বলেন, মায়ের প্ররোচনায় তার ছেলে মান্নান তাহমিনাকে শারীরিক নির্যাতন করে হাত-পায়ে আঘাত করেছে। সে দীর্ঘ দিন ধরে বিছানায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থায় নিষ্ঠুর স্বামী তার চিকিৎসা না করে উল্টো তাকে দিয়ে কাজ করিয়েছে। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার ঘরের প্রবেশ পথকে কেন্দ্র করে মা ও পুত্রের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে গৃহবধূ তাহমিনা তাদের ছাড়াতে আসলে ক্ষিপ্ত শাশুড়ি আলেমা বেগম উল্টো তাহমিনার উপর চড়াও হয়ে বলে তোর জন্যই এত অশান্তি। এ সময় তার স্বামী মান্নান বলে বাড়ি থেকে হয় টাকা না হয় মর বলে তাকে পেটাতে শুরু করে। এরপর তাহমিনার শ্বাশুড়ি ঘর থেকে কেরোসিন তেল এনে তাহমিনার গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাহমিনা অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিৎকার শুরু করলে তার দুই কন্যা মুন্নি ও মুক্তি আগুন নেভাতে ছুটে এলে পিতা মান্নান তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে বলেন ও মরুক। দগ্ধ তাহমিনা বাঁচাও বাঁচাও বলে ও তার কন্যার কান্নাকাটিসহ চিৎকার করলে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাহমিনা উদ্ধার করে। পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সুকান্ত জানান, তাহমিনার শরীরের ৫০ ভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায় সে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সু-চিকিৎসার চেষ্টা চলছে। হয়তো বা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হতে পারে।

পীরগাছা থানার এসআই মো. আতিকুর রহমান জানান, কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদগ্ধ করার ঘটনায় তাহমিনার স্বামী আব্দুল মান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাশুড়ি আলেমা বেগম পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ রংপুর বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাক্কের হোসেন মঞ্জু ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার বলেন, দগ্ধ তাহমিনাকে টাকাসহ চিকিৎসার সব ধরনের চেষ্টা ও সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by