logo

শুক্রবার ১৫, জুলাই ২০১৬, ০১ জৈষ্ঠ্য ১৪২৩, ০৯, শাওয়াল ১৪৩৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙনে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন
১৫ জুলাই, ২০১৬
পত্রিকা ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর ভাঙনে আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের রোডপাড়া গ্রামে গত জুন মাসের শেষ দিক থেকে পদ্মার ভাঙন শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৩০টি কাঁচাপাকা বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে আমবাগানসহ বহু গাছপালা ও ফসলি জমি। মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, একটি মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও ৪০টি ঘরবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা, আমবাগান ও ফসলি জমি। গোয়ালডুবি গ্রাম এলাকায় সদর ও শিবগঞ্জ রক্ষা প্রকল্পের শেষ মাথা থেকে এই ভাঙন শুরু হয়ে ভারতীয় সীমানা বরাবর নাড়–খাটি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ভাঙন চলছে। যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে অল্পদিনের মধ্যেই ঝুঁকির মধ্যে থাকা এই ৪০টি বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন আলাতুলি রক্ষা প্রকল্পের পরবর্তী অংশে তীব্র ভাঙনে অন্তত ৩০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ ওয়ার্ড সদস্য জামাল উদ্দিন ও আইয়ুব আলীসহ আরও অনেক জানান, বিগত ’৯৬ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বাখের আলী এলাকা থেকে তারা স্থানান্তরিত হয়ে রোডপাড়ায় বসতি গড়ে তোলে শতাধিক পরিবার। বর্তমানে সেখানে ভাঙনের কবলে পড়ে আবারও তাদেরকে স্থানান্তরিত হতে হচ্ছে।তারা জানান, গত জুন মাসের শেষ দিক থেকে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির পরেই রোডপাড়া গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে অন্তত ৩০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়। সেই সাথে আমগাছসহ অন্যান্য গাছপালা ও ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। নেমে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। হুমকির মুখে রয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, একটি মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ৪০টি ঘরবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা। মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে পদ্মা নদী। অবলিম্বে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহিদুল আলম জানান, বর্তমানে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে পদ্মা নদীতে আলাতুলি রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর পরের অংশে সুলতানগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৭৮০ মিটারব্যাপী এবারের নদী ভাঙনে প্রায় ৩০টি মাটির তৈরি বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
চরবাগডাঙ্গার ভাঙনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন কোনো খবর পাইনি। তবে গত বছর গোয়ালডুবি এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ার পর ৮৬ কোটি টাকার প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি অনুমোদন হয়নি।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েক লাখ পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। পরবর্তীতে বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়। গত বছর চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি এলাকায় ব্যাপক ভাঙনে বহু পরিবার ভাঙনের শিকার হয়। আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গার পদ্মা নদীর এই ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

    আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

    Developed by