logo

রবিবার ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৩৮

শিরোনাম

ফুলবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরী সভা
১৩ আগস্ট, ২০১৭
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বার্ষার পানিতে ডুবে গেছে উপজেলার ৩০ শতাংশ রোপা আমন ক্ষেত। মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দিনমজুর ও ক্ষেতমজুর পরিবারগুলো। তবে আশ্রয়গ্রহণকারীদের জন্য সরকারিভাবে শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলায় বন্যা মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।

রবিবার বেলা ১২টা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এহেতেশাম রেজা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সামগ্রীক ভাবে আলোচনা উঠে আসে গত শুক্রবার (১১আগস্ট) থেকে টানা প্রবল বর্ষণে উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের ৩৭টি পরিবার পানি বন্দি হয়ে ওই এলাকার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উ: শিবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। একইভাবে শিবনগর ইউনিয়নের ৩০টি পরিবার আদর্শ ডিগ্রি কলেজে আশ্রয় নিয়েছে। পৌরসভার সুজাপুর এলাকার ৬টি পরিবার বানিবন্দি হয়ে সুজাপুর সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে ওই জরুরী সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ বলেন, রবিবার (১৩ আগষ্ট) ফুলবাড়ীতে সর্বচ্চ ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ৩ দিনের বর্ষণে উপজেলার ৫ হাজার ১৩০ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত পানি নীচে রয়েছে। তবে পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত শেখ মো. মাহাতাবুর রহমান জানান, উপজেলার ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জলমগ্ন হয়ে পড়ার কারণে বন্ধ রয়েছে।

উক্ত জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত ক্রমে উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়। একইসাথে জানানো হয় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানকারী পরিবার প্রতি সরকারিভাবে ৪ কেজি চিড়া, ১ কেজি গুড়, ৩ প্যাকেট খাবার সালাইন, ৬টি মোমবাতি ও এক দিয়ারশালাই দেয়া হবে।

অপরদিকে উপজেলায় বন্যা মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। উপজেলার কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে দ্রুত কন্ট্রোলরুমে মোবাইল নম্বর ০১৭১৫১৭০৮১৪ জানাতে বলা হয়েছে। একইসাথে উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সর্তক ও সজাগ থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি শহিদুজ্জামান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মধু সুদন বর্মণ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল বাশার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমশের আলী মন্ডলসহ উপজেলার সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ।

সভাশেষে উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষেণে বের হন।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by