logo

মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমজান ১৪৩৯

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া :নিচু এলাকা প্লাবিত
বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত
১২ জুন, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
নিম্নচাপের প্রভাবে গত দু’দিনের মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণে চট্টগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রবিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামে প্রবল বৃষ্টিতে নগরীর অর্ধশতাধিক নিচু এলাকা অস্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়। দু’দিনের বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য লাইটারিং ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২২৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। বৃষ্টি আরও দু তিনদিন স্থায়ী হবে বলে জানান আবহাওয়া কর্মকর্তা রেজাউল করিম খান। তিনি জানান, নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। বিভিন্নস্থানে বেশ কিছু কাঁচা ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। তবে বড় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে চট্টগ্রামে আগ্রাবাদস্থ ফায়ার সার্ভিস অফিস জানায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের বেতার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অনুভূত হয়েছে। তা সত্ত্বেও গতকাল সোমবার প্রায় ৯টি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙর থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত আসা যাওয়া করে। বন্দরের জেটিতে বর্তমানে পণ্য উঠা নামায় যুক্ত আছে ১৮টি জাহাজ। তার মধ্যে ১১টি জাহাজই হচ্ছে কন্টেইনারবাহী। সোমবার রাতেও ৮-৯টি জাহাজ বহির্নোঙর ও জেটিতে আসা যাওয়া করার সিডিউল ছিল। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো সময়সূচি অনুসারে উঠা নামা করেছে। কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়নি।

প্রবল বর্ষণে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতার শিকার এলাকাগুলো হচ্ছে চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, নাসিরাবাদের বিভিন্ন এলাকা, বাদুরতলা, মিস্ত্রিপাড়া, রাঙ্গীপাড়া, খতিবের হাট, চান্দগাঁও হামিদচর । তবে সকালের দিকে পানি সরে যায়। এই বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর বিভিন্নস্থানে একতলা বাড়ি-ঘর ও দোকান পাটে পানি ঢুকে। বিভিন্ন পরিবার নিমজ্জিত ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু নিরাপদ স্থানে এবং আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গিয়ে ভোর রাতে সেহেরী গ্রহণ করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মী বাহিনীকে রবিবার থেকে তত্পর দেখা গেছে। বিভিন্নস্থানে খাল-নালা ও জলাশয়গুলো আবর্জনামুক্ত থাকায় পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি দ্রুত সরে যায়।

পাহাড় ধসের ক্ষতি এড়াতে, ৫০০ পরিবারকে স্থানান্তর প্রক্রিয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নগরীর পাহাড় সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত দু’দিন নগরীর ৪টি সারকেলের ৯টি পাহাড়ি এলাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেন। এ সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১৭০টি ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ করে সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ খবর

সারাবাংলা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by