logo

বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৮

শিরোনাম

বেছে বেছে শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী
১২ অক্টোবর, ২০১৭
ডেস্ক রিপোর্ট
রাখাইন রাজ্যের তমব্রুতে এখনও জ্বলছে বাড়িঘর। শুধু বিতাড়ন নয়, রোহিঙ্গা জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য শিক্ষিত রোহিঙ্গাদেরকে ধরে ধরে হত্যা করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

১১ অক্টোবর বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখার জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদল ১৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার পরিদর্শন করে ৬৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যে তথ্য পাওয়া যায় সেটি ঈঙ্গিত করে যে, মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। যা রোহিঙ্গা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জ্ঞানকেও ধ্বংস করার একটি প্রচেষ্টা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী অত্যন্ত সংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে বোঝা যায়, মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাখাইন বুদ্ধিষ্ট সম্প্রদায় মানবাধিকার লঙ্ঘন করে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সম্প্রতি ঘরবাড়ি ধ্বংস, এমনকি পুরোগ্রামে অগ্নিসংযোগ করেছে। শুধু তাই নয়, ধ্বংসযজ্ঞ এমনভাবে চালানো হয়েছে, যাতে করে তারা আর ফেরত না আসতে পারে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ পোস্টে আক্রমণ এবং এ ঘটনা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি করেছে বলে মিয়ানমার দাবি করলেও, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য না করে বিষয় দু’টিকে অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের আউটপোস্টে আক্রমণের অভিযোগে মিয়ানমার বাহিনী তাদের অভিযান শুরু করে। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি ওই আক্রমণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদন মতে, ২৫ আগস্টের আগে মিয়ানমার বাহিনী কয়েকটি নীতি অনুসরণ করছিল। এরমধ্যে ১৫ থেকে ৪০ বছরের রোহিঙ্গা নাগরিক ও প্রভাবশালী নেতাদের আটক, কৃত্রিমভাবে খাদ্য সংকট সৃষ্টি এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যাতে করে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

২৫ আগস্টের কয়েকদিন আগে থেকে রোহিঙ্গাদের বাজার, স্কুল, ধর্মীয় উপসনালয়, হাসপাতাল ইত্যাদি জায়গায় যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এছাড়া, ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী রোহিঙ্গাদের আগে থেকেই গ্রেফতার করা হচ্ছিল এবং পরে এদের অনেকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ২৫ আগস্টের আগে এবং পরে হত্যা, গুম, নির্যাতন এবং ধর্ষণের মাধ্যমে এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়, যাতে করে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি তার ভাষণে দাবি করেছিলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান বন্ধ আছে। কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর সফরকারী দল রাখাইনে নাফ নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ধোঁয়া দেখতে পায়।

মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, পুড়ে যাওয়া জমি সরকারের অধীনে চলে যাবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার এই আইনের কথা বলছে। কারণ, তারা চায় না ২০১২ সালের পরে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তারা আর ফেরত যাক।

উল্লেখ্য, ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশে। প্রথম ১৯ দিনে চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৪০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতিকে পঙ্গু করার লক্ষ্যে বাঙালি কৃতি সন্তানদের হত্যা করার ঘৃণিত পরিকল্পনা নিয়েছিল এবং অনেককে মেরেও ফেলেছিল।

সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by