logo

বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৮

শিরোনাম

সুনামগঞ্জ ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ
১২ অক্টোবর, ২০১৭
মো.আশিকুর রহমান পীর, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে ছাত্রলীগের কমিটি বিহীন সাত মাস অতিবাহিত। চলতি বছরের ১১ই মার্চ জেলা কমিটি ভেঙ্গে দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর বলা হয় যারা ছাত্রলীগের জেলা কমিটিতে নেতৃত্ব দিতে চান তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুধুর ক্যান্টিনের দুতলায় জীবন বৃত্তান্ত জমা দিন। শুরু হয় পদ পেথে আগ্রহী জেলার ছাত্রলীগ নেতাদের দৌড় ঝাঁপ। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন বৃত্তান্ত জমা দিতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতারা। পরে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করার ঘোষণা দেয়া হয়।

এ সময় অনেকে নিজের পাল্লা ভারি করতে এবং নিজের অনুরাসী বেশি লোক দেখানোর জন্য উপজেলা কমিটির নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। শহরেও যার যার অবস্থান জানান দিতে কেউ মিছিল আবার কেউ মটর সাইকেল শোভা যাত্রা করেন। কোন কিছুতেই কোন কাজ হয়নি। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা তাদের অনুসারীদেরকে নেতৃত্বে আনতে নিজেরাই নেমে পড়েন মাঠে। শুরু হয় ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে যোগাযোগ। কিন্তু সবাই চান পুরো কমিটিতে তার অনুগত নেতা কর্মী ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবে না কমিটিতে।

ত্রিমুখী দন্ধ শুরু হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে। কিন্তু কমিটি না হওয়ার কারণে দিন দিন হতাশ হয়ে পড়ছেন সুনামগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। তারা ছাত্রলীগের ব্যানারে কোন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করতে পারছেন না। এ দিকে কেউ কেউ আবার হতাশা নিয়ে যোগ দিচ্ছেন আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন গুলোতে। কিছু নেতা কর্মী আছেন কমিটিতে পদ পেতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

সুনামগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সামনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মূল সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটিই নেই। তাহলে কি ভাবে পরিচালিত হবে ছাত্রলীগ তা আমাদের জানা নাই। সব কিছুই উল্ট পাল্টল হয়ে যাচ্ছে।
এ ভাবে চলতে থাকলে পরবর্তীতে সুনামগঞ্জে ছাত্রলীগ নামের সংগঠন থাকবে কিনা প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। ৭৫ জনের মধ্যে যারা জীবন বৃত্তন্তা জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছাত্রলীগের পুরাতন কমিটিতে ছিলেন, আবার অনেকেই আছেন কোন ইউনিট কমিটিতে ছিলেন না। তবে একটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগে জামায়াত নেতার অনেক উত্তর সূরী কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। যাচাই বাছাই করে এদেরকে রুখতে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। তবে তিন বলয়ে বিভক্ত নেতা কর্মীরা সবাই চাচ্ছেন যেন দ্রুত কমিটি হয় ছাত্রলীগের।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বলয়ে রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নাজমুল হক কিরণ তিনি সভাপতি পদ প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তার জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন, এই বলয়ের আরেক সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক হাবিব আল হাসান তপু, সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী সাবেক দুযোর্গ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আলম পিয়াল। এ দিকে ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুন্নবী তালুকদার সৈকতও পদ পেতে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত জিসান এনায়েত রেজা সভপতি পদের জন্য দীপঙ্কর কান্তি দে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য কাজ করছেন। এ ছাড়াও আরও রয়েছেন মাসকাওয়াত জামান ইন্তি সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী, একই পদ চান এই বলয়ের ফয়সল আহমদও। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখত জগলুল সমর্থক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আরিফুল আলম সভাপতি পদ চান।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নাজমুল হক কিরণ বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্রলীগের সাথে আছি। বিগত কমিটিতে আমি পদেও ছিলাম। আমি মুক্তিযোদ্ধ ও আওয়ামী স্বপক্ষের পরিবারের লোক। জেলাসহ সকল উপজেলার নেতা কর্মীদের সাথে আমরা ভাল যোগাযোগ রয়েছে। জেলার অনেকেই আমকে সভাপতি পদের জন্য সমর্থন দিয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগ নেতা জিসান এনায়েত রেজা বলেন, আমাকে জাকির ভাই যে পদ দিবেন সেটা নিয়েই কাজ করব। সাংগঠনিক পদ তো হচ্ছে দুটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর মধ্যে যে পদই পাব সেটি নিয়ে কাজ করব।

এ ব্যাপার ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিল বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে আমাদের কাছে ৭৫টি সিভি জমা পড়েছে। এ গুলো যাচাই বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীর কাছে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেয়া হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মাঠের রাজনীতি অবিবাহিত সবচেয়ে বেশি দক্ষ যে তাদেরকেই কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত করবে। এ মাসের মধ্যেই কমিটি হবে।

সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by