logo

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি ২০১৬ . ১৬ মাঘ ১৪২২ . ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৭

ঘরের সাজে মনও সাজে
২৯ জানুয়ারি, ২০১৬
সাবিয়া আক্তার
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে সবাই চায় একটু শান্তি আর সুখ। আর তাইতো সবার স্বপ্ন থাকে সুখের নীড়ের। মনোযোগী হন ঘর সাজাতে। একটা সময় ছিল যখন ঘর সাজাতে ভারী কারুকার্যের আসবাবপত্র বেছে নেয়া হতো। যেগুলোর দামও ছিল অনেক বেশি।  কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি বদলেছে। হালকা আর ফ্যাশনেবল আসবাবপত্রই এখন স্থান পেয়েছে ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবেÑ যা আপনার ঘরে জায়গা বাঁচায় আর সৃষ্টি করে নান্দনিকতাও। কেমন হবে আপনার গৃহসাজ-এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আলমগীর বিপ্লব। তিনি বলেন, ঘরের সাজ মূলত আপনার রুচির পরিচয়কে তুলে ধরবে। ঘর সাজাতে দেয়ালের রং থেকে শুরু করে ঘরের প্রতিটি কোনে চাই বাড়তি মনোযোগ আর যতেœর। রঙের সঠিক ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে পারে ঘরের সৌন্দর্য। মনে রাখতে হবে, উজ্জ্বল এবং হালকা রং ঘর বড় দেখাতে সাহায্য করে। যদি ঘরে সূর্যের আলো কম ঢোকে তাহলে কোনো ভাবেই দেয়ালে গাঢ় রং করাবেন না। ঘর আরো অন্ধকার দেখাবে। যদি গাঢ় রং করাতে চান তাহলে একটি দেয়ালে কমলা, লাল, হালকা নীল রং করে অন্য দেয়ালগুলোয় নিউট্রাল রং করান।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বদলে গেছে ফার্নিচারের ধরন,  সেই সাথে গৃহের সাজ। আজকাল বাসাবাড়িতে চলছে একেবারেই ছিমছাম সাজের প্রচলন। যদিও এখনো অনেকেই ভারী, রাজকীয় ডিজাইনের আসবাব পছন্দ করেন, তবে বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ ছিমছাম আসবাবপত্র। এতে যেমন জায়গা বাঁচে, তেমনই বাঁচে অর্থ। সঠিক রঙের পর্দার ব্যবহারও পারে আপনার ঘরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে। ঘরের দেয়ালের সাথে কন্ট্রাস্ট রঙের পর্দার ব্যবহার ঘরের স্যাঁতসেঁতে এবং মনমরা ভাব দূর হবে। কালারফুল এবং ব্রাইট মুড আনার জন্য কন্ট্রাস্ট রঙের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। পর্দার ডিজাইন অনেকটাই নির্ভর করে জানালা-দরজার ডিজাইনের ওপর। সুন্দর এক সেট পর্দা ঘরের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়ে দেবে। কোন রং কতটা ফুটবে বা ভালো লাগবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে লাইটের ওপর। সাধারণভাবে গাঢ় রংয়ে রুম ছোট আর হালকা রংয়ে রুম বড় দেখাবে। আর চার দেয়ালে একই ভিন্ন ভিন্ন রং করতে চাইলে কালার কম্বিনেশন কেমন হবে তা সাবধানে ঠিক করতে হবে। ঘর সাজানো কেবল ধনীর বিলাসিতা তা নয়। চাইলে মধ্যবিত্তরাও কম খরচে রুচিশীল আসবাপত্র ব্যবহার করে ঘর সাজাতে পারেন। কম খরচেও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন আপনার ঘরটি। ইদানীং ফার্নিচারের দোকানগুলোয় অনেক কম দামে ফ্যাশনেবল ফার্নিচার পাওয়া যাচ্ছে। যদি একটু খেয়াল করে ও ম্যাচিং করে  ফার্নিচার কেনা যায় তাহলেই অনেক সুন্দর লাগবে। এছাড়া ঘর সাজাতে ইন্টারনেট  থেকেও  সাহায্য নিতে পারেন। চাইলে স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে সুন্দর করে সাজাতে পারেন আপনার ঘরটি।

কোন ঘরে কোন রঙের ব্যবহারে ঘর আকর্ষণীয় হবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, বেডরুম, ডাইনিং ও ড্রয়িংরুমে যে কোনো হালকা রং দিন। যেমনÑ ক্রিম কালার, হালকা হলুদ কালার, নীল রং ইত্যাদি খুবই ভালো লাগবে। আপনার রুমের যে কোনো একটি দেয়ালও আপনি রং করতে পারেন বা ওয়াল পেপার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ঘরে সবুজের সমারোহ ঘটাতে কিছু গাছ রাখতে পারেন। যা ঘরে এনে দেবে সবুজ আর শীতলতার ছোঁয়া। মনোযোগী হন শিশুর ঘরের পরিবেশে। শিশুর ঘর সাজানোর আগে তার মতামত জেনে নেয়া ভালো। শিশুর মানসিক বিকাশে ঘরের দেয়াল গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যে ঘরে সে থাকবে, সেই ঘরের পরিবেশের প্রভাব তার ওপর পড়বে। তাই শিশুদের ঘরের ডিজাইন বা নকশা করার ক্ষেত্রে দেয়ালের রং আর ডিজাইনের প্রাধান্য দেয়া উচিত। হালকা কয়েকটি রং ব্যবহার করাই ভালো। বাচ্চার পছন্দের কোনো থিম নিয়ে ঘরটি সাজানো যায়। আপনার ছোট শিশুটি যদি কার্টুন পছন্দ করে তবে তার ঘরের একপাশের দেয়ালে কার্টুন পেইন্ট করিয়ে নিতে পারেন। অথবা পশুপাখির ছবিও আঁকিয়ে নিতে পারেন। আপনার শিশুটি যেন ঘরে তার নিজ ভুবন তৈরি করে নিতে পারে সেদিকটি মাথায় রাখুন। হ্যাঁ, তবে এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে শিশু উভয়ের জন্যে থিম ভিন্ন হবে। ঘর সাজাতে যেন বাদ না পড়ে ঘরের কোনো কোণ। মনোযোগী হোন সিঁড়ি আর বারান্দায়ও। এক্ষেত্রে বারান্দা আর সিঁড়িতে আনতে পারেন সবুজের ছোঁয়া। লম্বা টানা বারান্দার যুগ ফুরিয়েছে, এখন শহুরে ফ্ল্যাটগুলোর সাথে যদি কোনোক্রমে একচিলতে বারান্দা মেলে তবে সেটাই ভাগ্যের। জায়গা কম হোক বা বেশি, বুদ্ধি করে কিছু গাছ অবশ্যই লাগিয়ে ফেলুন। সাধারণ টবের বদলে যদি মাটির নকশাদার টবে গাছ লাগান, তাহলে দেখতে সুন্দর লাগবে। যদি বারান্দায় আলো-বাতাস বেশি আসে তাহলে যে কোনো গাছই লাগাতে পারবেন। আলো-বাতাস কম পেলে ইনডোর প্ল্যান্ট, মানি প্ল্যান্ট এসব লাগাতে পারেন। এছাড়াও দেয়ালের সাথে ছোট ছোট তাক বানিয়ে নিতে পারেন এবং এসব তাকে সারি বেঁধে রাখতে পারেন গাছের টব। এতে অল্প জায়গায় অনেকটা সবুজের সমারোহ হবে। বারান্দায় বসার ব্যবস্থা করতে চাইলে খুব ভারী কোনো ফার্নিচারের ব্যবস্থা রাখবেন না মোটেও। বেতের মোড়া বা চেয়ার ব্যবহার করুন। শতরঞ্চি বিছিয়ে দুটি কুশন সাজিয়েও বসার ব্যবস্থা করতে পারেন। সাধারণ কাঠের টুলও ব্যবহার করতে পারেন বসার জন্য। বারান্দায় ঝুলন্ত গাছ (যেমন অর্কিড) কিংবা শোপিসও লাগাতে পারেন। এতে জায়গাও বাঁচবে। বারান্দা সাজাতে মাটি বা রড আয়রনের শোপিসই বেশি ব্যবহার করুন। এতে একটা ছিমছাম ভাব থাকবে গোটা বারান্দাজুড়েই।

সব শেষে বলব ইন্টেরিয়র প্ল্যানে যে বিষয়টিকে অবশ্যই প্রাধান্য দেবেন তা হলো ঘরে আলো। ঘরের ইন্টেরিয়র প্ল্যান করার আগে লাইটিংয়ের ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। আলো-ছায়ার ম্যাজিক তৈরি করতে চাইলে সাদা, লাল, কমলা, গোলাপি বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করুন। আর বিশেষ অংশ হাইলাইট করার জন্য স্পট লাইট লাগান।

সর্বশেষ খবর

সৃজন এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by