‘দিন যত যাইতেছে বাজারে দাম একছের বাড়তেছে। কিন্তু আমাগো ভাড়া বাড়ে না। বর্তমানে বাজারের সবকিছু হাতের বাইরে। এহানে আইয়া দেহি পোলাপাইনে বাজারের থেইকা কম টাহায় রোজার মালপত্র বেছে। এহান দিয়া ১০ টাকা বাঁচলেও আমাগো মতো গরিবের লাভ।’
আজ সোমবার পটুয়াখালীর শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্কে ‘রমজানের বাজার’ থেকে নিত্যপণ্য কিনতে এসে কথাগুলো বলছিলেন অটোরিকশাচালক ফিরোজ। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ফিরোজের মতো সীমিত আয়ের মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে স্বল্প মূল্যে পণ্য বিক্রির এ বাজার বসিয়েছে ‘পটুয়াখালীবাসী’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
আজ সকালে বাজারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত আরা জামান উর্মিসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় ছোলা, মসুর ডাল, তেল, মুড়ি, চিনি, চিড়া, লবণ, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, পুরো রমজান মাসে এক দিন পরপর বাজার বসবে। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ পরিবারের কাছে পণ্য বিক্রি করা হবে। খুচরা বাজারের তুলনায় প্রতি কেজি পণ্যে ২০-৪০ টাকা কম রাখা হবে।
পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সদস্যরা এর আগেও ভর্তুকি দিয়ে, আবার কখনো পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কিনে ভ্যানে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম টাকায় বিক্রি করেছেন। এবার চালু করেছেন রমজানের বাজার।
এখানে পণ্য কিনতে আসা কুলসুম বেগম নামের একজন বলেন, ‘এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। পরিবারের চাহিদা মেটাতে যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এই বাজার থেকে সাশ্রয়ী দামে সব প্রয়োজনীয় জিনিস পাচ্ছি।’
পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান রায়হান বলেন, ‘আমরা এ বাজারের আয়োজন করেছি, যাতে রমজান মাসে অন্তত বাজার সিন্ডিকেটটা ভাঙতে পারি। আর সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। আমরা ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বড় আকারে করতে চাই, যাতে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়।’
এ উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত বলেন, ‘এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এটি বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য উপকারী। আমরা সাধুবাদ জানাই এবং তাদের পাশে রয়েছি।’