পটুয়াখালীর দশমিনায় মো. মহিউদ্দিন ইছা (১৯) নামের এক তরুণের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের নির্জন এলাকায় তরমুজখেতের টংঘর থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। তিনি পেশায় ছিলেন অটোরিকশাচালক।
নিহত মহিউদ্দিন পটুয়াখালী সদরের ইটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাফর ফকিরের ছেলে। গত মঙ্গলবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। রাত বেশি হলে তাঁর ভাই মহিউদ্দিন মোবাইলে ফোন দিয়ে তা বন্ধ পান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গতকাল বুধবার বিকেলে জানতে পারেন দশমিনার চাঁদপুরা গ্রামের নির্জন এলাকায় এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তাঁরা গিয়ে ওই লাশ তাঁর ভাইয়ের বলে শনাক্ত করেন বলে তিনি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাহতাব হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সকাল ৮টার দিকে খেতে কাজ করতে গিয়ে টংঘরের বেড়ায় রক্ত দেখতে পান। পরে ঘরের মধ্যে খড়কুটা দিয়ে ডেকে রাখা অবস্থায় এক ব্যক্তির মাথা দেখতে পেয়ে তাঁর মহাজনকে জানান। মহাজন ইউপি সদস্যকে জানান।
স্থানীয় আলীপুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ওই এলাকায় একটি অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখেন। গাড়ির নিবন্ধন প্লেটে লেখা ছিল পটুয়াখালী পৌরসভা-০১৪৮। তিনি বিষয়টি তখনই থানা-পুলিশকে জানান। পুলিশ গাড়িটি তাঁর জিম্মায় রাখতে বলেন। অটোরিকশাটি মহিউদ্দিনের বলে তাঁর ভাই কাওছার ও চাচা বেলায়েত আলী ফকির শনাক্ত করেন।
দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে টংঘরের মধ্যে খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রাখে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির মাথায়, মুখে, গলায়, পায়ে ও কোমরের পেছনের অংশে অসংখ্য কোপ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (দশমিনা সার্কেল) মো. সাদিকুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।