কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গত রাত থেকে বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি সময় বাড়ার সঙ্গে উত্তাল হতে শুরু করেছে সমুদ্র।
এমন পরিস্থিতিতে টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সতর্ক ও নিরাপদে থাকার জন্য মাইকিং করলেও কুয়াকাটা ছেড়ে যাচ্ছেন পর্যটকেরা।
আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট মালিকেরা বলছেন, গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হোটেলগুলোর প্রায় অর্ধেক খালি হয়ে গেছে। রাতের মধ্যে বাকি পর্যটকেরাও চলে যাবেন বলে আশঙ্কা তাদের।
গতকাল সোমবার রাত থেকেই বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে এ উপকূলীয় এলাকায়। পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। কলাপাড়া উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) ইতিমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তবে পর্যটকেরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শ্যামল কর্মকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় দুই দিন থাকব বলে প্ল্যান ছিল। এখন খারাপ আবহাওয়ার কারণে পরিবর্তন করে একদিন থেকেই চলে যাচ্ছি।’
এ বিষয় আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল আমিন মুসল্লি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকেরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করছে। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে না।’
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা সব সময় পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকি। তারা কোনোভাবেই যেন সমস্যায় না পরেন, সেভাবে স্পষ্ট করে ঘোষণা দেওয়া আছে।’
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছি। গতকাল সোমবার থেকে আজ মঙ্গলবার এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত, আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে মাইকিং করছি। এবং নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।’