ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সহোদর দুই বোনকে উদ্ধার করেছে র্যাব। গতকাল মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
দুই বোনকে উদ্ধারের বিষয় আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেন ঢাকার কদমতলী থানা উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন।
কদমতলী থানা সূত্রে জানা গেছে, ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার কদমতলী থানার ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ সিকদারের দুই মেয়ে আদ্রিতা বিনতে মাহফুজ (২০) ও আবজা জাহানকে (১১) নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে মাহফুজ সিকদার কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি অনুযায়ী গতকাল রাত আড়াইটার দিকে দশমিনা উপজেলা সদরের সবুজবাগ এলাকার আবুল কালাম আজাদের বাসা থেকে পটুয়াখালীর র্যাব-৮ ও ঢাকার র্যাব-১০ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে দুই বোনকে উদ্ধার করে দশমিনা থানায় নিয়ে আসে। পরে কদমতলী থানার এসআই রুহুল আমিরের কাছে হস্তান্তর করে।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান মঞ্জু আজকের পত্রিকা প্রতিনিধিকে বলেন, থানার অন্তর্গত জাপানি বাজার এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ সিকদার ১৪ ডিসেম্বর একটি জিডি করেন। তাতে উল্লেখ করেন তাঁর দুই মেয়ে অপহরণের শিকার হয়েছে। দশমিনা উপজেলা থেকে দুই বোনকে কদমতলী থানা-পুলিশ, র্যাব-৮ ও র্যাব-১০–এর যৌথ অভিযানে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
এসআই রুহুল আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, কদমতলী থানার জিডি অনুযায়ী গতকাল রাতে সহোদর দুই বোন আদ্রিতা ও আবজাকে দশমিনা থানা এলাকার আবুল কালাম আজাদের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।
রুহুল আমিন জানান, মাহফুজ সিকদার দুই বিয়ে করেন। অপহরণের শিকার দুই বোন তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মেয়ে। মাহফুজ সিকদার দ্বিতীয়বার বিয়ে করার পর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সৎমায়ের কাছে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হন দুই বোন। বড় মেয়ে আদ্রিতাকে তাঁর মা বিয়ে দিলে মাহফুজ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মানতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এরপর দুই বোন মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাসা থেকে পালিয়ে দশমিনায় আশ্রয় নেন। উদ্ধার করা বাসার সঙ্গে তাঁর মায়ের পূর্বপরিচিত ছিল।
পটুয়াখালী র্যাব-৮ অপারেশন অফিসার নায়েক সুবেদার জহিরুল ইসলাম কবির এক বিবৃতিতে জানান, জিডির কপি আসার পর প্রযুক্তির মাধ্যমে দশমিনা থেকে আদ্রিতা ও আবজাকে উদ্ধার কার হয়। পরে তাঁদের দশমিনা থানা থেকে কদমতলি থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।