কক্সবাজারে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এতে চরম আতঙ্কে ভুগছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযানের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও কবি নুপা আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ রোববার কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানিয়ে অবস্থান নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাংবাদিক নুপা আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী এইচএম ওসমান গণি, চাকরিজীবী হাসান আলী, সাংবাদিক এহসান কুতুবী, সাজন বড়ুয়া, মুহিব উল্লাহ মুহিব, ইব্রাহিম, মোহাম্মদ রাসেল প্রমুখ।
নুপা আলম বলেন, কয়েক বছর ধরে টেকনাফের পাহাড়ে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি বাহিনী গঠন করে পাহাড়ে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এসব পাহাড়ে ধারাবাহিকভাবে মানুষজনকে অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। গত এক বছরে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় ১৯২ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। যাদের বেশির ভাগই মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে। হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী বলেন, ৩৫০ থেকে ৪০০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ পাহাড়ে আস্তানা গেড়েছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিগত সরকারের আমলে পাহাড়ে এ ধরনের অপরাধ চক্র গড়ে উঠেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পরও অপরাধ চক্রটি সক্রিয় থাকায় স্থানীয় লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে অপহরণ করা হয়েছে ৩০ জন। যার মধ্যে দুজন এখনো জিম্মি রয়েছে। টেকনাফের মানুষ মনে করেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হলে এই ভয়াবহ অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নিজাম উদ্দিন আহমদ।
উল্লেখ্য, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়ন পুরোটাই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার কিছু এলাকায়ও পাহাড় রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।