কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভয়াবহ বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্রে আসা এক নারী পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত বুধবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার শিদলাই আশরাফ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে রোমা আক্তার নামের ওই নারীর প্রসববেদনা শুরু হলে তাঁকে শিদলাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
রোমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার নবীয়াবাজ এলাকার বাসিন্দা মো. আল-আমিনের স্ত্রী। বর্তমানে তাঁরা শিদলাই ইউনিয়নের শিদলাই ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রোমার বাবার বাড়িতে বাস করছেন। জন্ম নেওয়া শিশুটি ওই দম্পতির প্রথম সন্তান।
শিদলাই আশরাফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, গোমতী ও সালদা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়া বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে গেলে রোমা আক্তারকে নিয়ে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন তাঁর স্বামী আল-আমিন। চার দিন আগে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন তাঁরা।
পরে বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ওই প্রসূতির প্রসব বেদনা উঠলে ইয়াং স্টার নামে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একদল স্বেচ্ছাসেবী সদস্যের সহযোগিতায় তাঁকে নিকটস্থ শিদলাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই জন্ম নেয় ওই দম্পতির একটি ফুটফুটে ছেলেশিশু।
শিদলাই ইয়ং স্টারের স্বেচ্ছাসেবক মো. সোহেল রানা, মো. নাসির উদ্দীন, সালে আহমেদ, ইমাদ আহমেদ, মো. আশিক ও মহিবুর রহমান খোকন বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রোমা আক্তারের স্বামী আল আমিন তাঁর স্ত্রীর প্রসববেদনার বিষয়টি জানালে আমরা তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ শিদলাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা নজিবা আক্তার ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিপাশা আনছারীর তত্ত্বাবধানে ওই প্রসূতি একটি ফুটফুটে ছেলের জন্ম দেন। এ সময় ওখানকার দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক জুবায়ের হোসেন শাকিল সার্বিক সহযোগিতা করেন।’
প্রসবের দায়িত্বে থাকা নজিবা আক্তার ও বিপাশা আনছারী জানিয়েছেন, মা ও শিশু উভয়ে সুস্থ আছেন।
শিদলাই ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম (আলাউল) আকবর বলেন, আকস্মিক বন্যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বানভাসিদের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।