আজ ২৬ মার্চ। ৫৫তম মহান স্বাধীনতা দিবস। এ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দলমত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছে। শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে এনেছে ফুল কিংবা ফুলের তোড়া। সেই সব ফুলের স্থান হচ্ছে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে। হাজারো জনতার শ্রদ্ধার ফুলে ভরে উঠেছে শহীদ বেদি।
স্বাধীনতা উদ্যাপনে স্মৃতিসৌধে আগতদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের ব্যানার নিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ এসেছেন ব্যক্তি হিসেবে। কেউ পরিবার নিয়ে। স্মৃতিসৌধ চত্বরে আগত হাজারো মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উল্লাস। শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকের হাতেই লাল-সবুজের পতাকা লক্ষ করা যায়। কেউ কেউ আবার স্বাধীনতার লাল-সবুজ রঙের জামা পরেছে।
এর আগে সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর ত্যাগ করার পর তা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে স্মৃতিসৌধ এলাকায়।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমেদ সালেহীন বলেন, ‘স্বপ্ন দেখি যেখানে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থাকবে না, ধর্মের নামে কোনো যুদ্ধ হবে না, কোনো অযথা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ হবে না। প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেন স্বচ্ছতা থাকে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকে। জনগণ যেন সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারে। মানুষের জীবিকার মান যেন বাড়ে এটাই চাই স্বাধীনতা দিবসে। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দেখতে চাই। যেখানে কারও ওপরে কোনো অপশক্তির চাপ আসবে না।’
রমজান মাস এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ স্মৃতিসৌধে অন্যান্য যেকোনো দিবসের তুলনায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনের উপস্থিতি ছিল আগের মতোই। সকাল থেকে বিএনপি, এনসিপি, বাসদ, জাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ নানা রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিট, বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজিসহ সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান।