হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় রাজবাড়ী জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. শওকত হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সদর উপজেলার আলাদিপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত আজাহার আলী শেখের ছেলে।
রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় যুবলীগের সভাপতি শওকত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকেলে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন শিক্ষার্থী রাজিব মোল্লা। তিনি সদর উপজেলার মাটিপাড়ার কাউরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।
এজাহারে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই বেলা ৩টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা শহরের বড়পুল মোড়ে অবস্থান নেন। সে সময় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর নির্দেশে এজাহারনামীয় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে অতর্কিতভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় সোনিয়া আক্তার স্মৃতি, নুরুন্নবী, আশিক ইসলাম অভি, রাজিব মোল্লা, মেহেরাব, আলতাফ মাহমুদ সাগর, উৎস সরকার, রিয়াজসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী আহত হন।
মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী ও তাঁর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক কাজী রকিবুল হাসান শান্তনু, জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. শওকত হাসান, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান মিয়া সোহেল, রাজবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর শেখ তিতু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ রাজিব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিন শেখসহ ১৭০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।