ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী অংশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন বসছে সবজির হাট। মহাসড়কে হাট বসায় প্রতিনিয়ত দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পূর্বাঞ্চলের দূরপাল্লার চালক ও যাত্রীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকাল মহাসড়ক ঘেঁষে জঙ্গি-শিবপুর এলাকায় সবজির হাট বসে। এতে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সকাল সাড়ে ১০টায় যানজট কিছুটা নিরসন করতে সক্ষম হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কে সবজির হাট ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণে মুখর। সবজিবোঝাই ভ্যান, অবৈধ সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এলোপাতাড়ি সড়কে পার্ক করা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে সবজি কিনতে আসছেন পাইকারেরা। মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে আছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যানজটের অন্যতম কারণ মহাসড়কে সবজির হাট বসা। হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা এবং তদারকির অভাব। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলে এলেও মহাসড়ক থেকে বাজার স্থানান্তরে প্রশাসনের নেই কোনো পদক্ষেপ।
ব্যবসায়ীরা জানান, জঙ্গি শিবপুর, বারৈচা ও মরজাল বাসস্ট্যান্ড বাজারের ভেতরে সবজি ও মৌসুমি ফল বেচাকেনার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা ইচ্ছা করেই মহাসড়কে হাট বসান।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজির হাট বারৈচা, শিবপুর বাজার। মৌসুমি ফলের সবচেয়ে বড় বাজার মরজাল। বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তিনটি অংশে এসব বাজার বসে। প্রতি শুক্র, সোম ও বুধবার বারৈচা বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে। রবি ও বৃহস্পতিবার জঙ্গি-শিবপুর বাজার বসে।
যানজটে আটকা পড়া ঢাকাগামী পরিবহনের চালক মজনু মিয়া প্রচণ্ড রোদে গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন। কপালের ঘাম মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ভাই প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে ছিলাম। ঢাকার যানজটের মতো এখানেও ভয়ানক অবস্থা। এই সমস্যার সমাধান চাই।’
ভৈরব হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. সাকের আহমেদ বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করি। দীর্ঘদিন যাবৎ বাজারগুলো বসছে। মাঝেমধ্যে গিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করে থাকি। সামনেও মহাসড়কে যানজট নিরসনে কাজ করব।’